বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ে জড়িত ৫ জন ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামে সঞ্জিত কুমার রায় (৫০) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ে জড়িত চক্রের পাঁচ সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শনিবার (২৯ অক্টোবর) নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ আমিনুল ইসলাম(৩৩), মোঃ নুরুল ইসলাম (৩৭), মোঃ সেলিম (৩৭), আয়েশা আক্তার ওরফে ফিরোজা (৩২), রেহেনা আক্তার মীম (২২)।

পুলিশ জানায়, ভিকটিম সঞ্জিত কুমার রায় (৫০) পাহাড়তলী থানাধীন অলংকার শপিং কমপ্লেক্সে চাঁদনী জুয়েলার্সের মালিক। দুজন মহিলা গত ২৮ অক্টোবর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিভিন্ন স্বর্ণালংকারের মূল্য দেখে এবং তারা কিছু স্বর্ণালংকার বিক্রি করবে বলে জানিয়ে তার মোবাইল নাম্বার নিয়ে যায়। পরদিন ২৯ অক্টোবর তারা সঞ্জিত কুমার রায়কে ফোন করে জানায় তাদের ব্যবহারের কিছু স্বর্ণালংকার আর্থিক সংকটের জন্য বিক্রি করবে। তিনি স্বর্ণালংকারগুলো কিনতে রাজি হন। স্বর্ণালংকারগুলো দেখার জন্য হালিশহর থানাধীন নয়াবাজার মোড়ে আসতে বলে। তিনি পার্শ্ববর্তী দোকান মালিক শংকর দেবকে স্বর্ণ কিনার জন্য হালিশহর থানাধীন নয়াবাজার মোড়ে যাচ্ছে জানিয়ে দোকান বন্ধ করে উক্ত স্থানে যান। তাদের দেওয়া নাম্বারে ফোন করলে তারা সঞ্জিত কুমার রায়কে নয়াবাজার মোড়ে তায়েফ হোটেলের বিপরীত পাশে রাস্তার উপর থাকা সিএনজির পাশে যাওয়ার জন্য বলে। তিনি তাদের কথামত অজ্ঞাতনামা সিএনজির সামনে গেলে সিএনজিতে থাকা দুজন তাকে চাকু ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক সিএনজিতে উঠিয়ে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। কয়েক মিনিট কথা বলার পর সেখানে আরো দুজন মহিলা আসে । তিনি তাদের দেখে চিনতে পারেন।

পরবর্তীতে সকলেই তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে একটি ভবনের ২য় তলার একটি রুমের ভিতর আটক রাখে। তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। তাদের দাবীকৃত টাকা না দিলে উক্ত মহিলাদের সাথে ভিকটিমের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে বলেও হুমকি প্রদান করে। ভিকটিম টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে কিল, ঘুষি মেরে খুন কীার হুমকী দেয়।

একপর্যায়ে ভিকটিম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে পাশ্ববর্তী ব্যবসায়ী শংকর দেব এর ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরুরী ভিত্তিতে সংগ্রহ করে পাহাড়তলী থানাধীন অলংকার শপিং কমপ্লেক্স এর নিচে আলিফ হোটেলের সামনে আসার জন্য বলে। একজন লোক বর্ণিত নাম্বার থেকে ফোন করে গেলে টাকা গুলো তাকে দিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। তখন ভিকটিমের কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় শংকর দেব বিষয়টি ভিকটিমের ভাইকে ফোন করে জানায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের ভাই এবং তার পাশ্ববর্তী ব্যবসায়ী শংকর দেব হালিশহর থানায় এসে পুলিশকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তুারিত জানায়।

২৯ অক্টোবর পাহাড়তলী থানাধীন অলংকার শপিং কমপ্লেক্স এর সামনে থেকে মুক্তিপণের দাবীকৃত টাকা নিতে আসা মো. আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহর থানাধীন ১নং পানিরকল এলাকা থেকে মো. নুরুল ইসলাম, মো. সেলিম, আয়েশা আক্তার ওরফে ফিরোজা, রেহেনা আক্তার মীমদের হেফাজত থেকে ভিকটিম সঞ্জিত কুমার রায়কে উদ্ধার করা হয়।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত