চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রিহান উদ্দিন মাহিন (১৫) নামে এক কিশোরকে চোর আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহতের মা বাদী হয়ে শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে ফটিকছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ সাত থেকে আটজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত নোমান ও আজাদ নামে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে বলে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে মাহিনসহ তিন কিশোর কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার চেইঙ্গার ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ তাদের ধাওয়া করে। প্রাণ বাঁচাতে তারা একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে আশ্রয় নেয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাদের নিচে নামিয়ে ব্রিজের ওপর রশি দিয়ে বেঁধে চোর আখ্যা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই মাহিনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয় মানিক ও রাহাত। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। খবর পেয়ে মাহিনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার বাবা মুহাম্মদ মনা (৪৫) ও মাকেও পিটিয়ে জখম করে হামলাকারীরা।
আহতদের পরিবারের অভিযোগ, মানিক ও রাহাত আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে চুরির অজুহাতে ‘মব’ সৃষ্টি করে তাদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। তারা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
নিহতের বাবা মুহাম্মদ মনা বলেন, “আমার ছেলে মাহিন কাঞ্চননগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। সে টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ তোলার পর আমি বলেছি, যদি টাকা নেয় আমি সব পরিশোধ করব। কিন্তু তারা আমার ছেলেকে বাঁচতে দিল না। আমি গিয়েও ছেলেকে বাঁচাতে পারিনি। আমাকেও মেরেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, “তিন কিশোরকে চোর আখ্যা দিয়ে পেটানো হয়েছে। এতে এক জনের মৃত্যু হয়। অথচ তারা চুরির সঙ্গে জড়িত নয়। নিহত কিশোর রিহান উদ্দিন মাহিন স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।


