রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
Single Top Banner

চাকসু খসড়া ভোটার তালিকায় অসংগতি, চূড়ান্ত তালিকা ১১ সেপ্টেম্বর  

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অসংগতি। তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক—সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ ও সাবেক সহকারী প্রক্টর রন্টু দাশ। অথচ নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষক চাকসুর ভোটার হওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়া শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের ভোটার তালিকায় পাওয়া গেছে পাঁচ ছাত্রীের নাম। তারা সবাই পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী। এসব ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। যে নামগুলোতে অসংগতি রয়েছে সেগুলো সংশোধন করা হবে। তিনি জানান, ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

খসড়া তালিকা অনুযায়ী এবার চাকসুতে মোট ভোটার ২৫ হাজার ৮৬৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ হাজার ৮৪১ এবং পুরুষ ভোটার ১৫ হাজার ২৫ জন।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদে অর্থনীতি বিভাগে ৮৯৪, রাজনীতিবিজ্ঞান ৮৯৩, সমাজতত্ত্ব ৭০৪, লোকপ্রশাসন ৮৪৪, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ৪৪৪, সাংবাদিকতা ৩৭৪, নৃবিজ্ঞান ৪৮০, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স ২২৬ এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ১৮৭ জন ভোটার রয়েছেন। ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে হিসাববিজ্ঞান ৭০৫, ফাইন্যান্স ৮৬১, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স ৬২২, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ৫৮০, ব্যবস্থাপনা ৬৯৬ ও মার্কেটিং বিভাগে ৫৮৭ জন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

জীববিজ্ঞান অনুষদে জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে ২২৬, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান ২৫৯, উদ্ভিদবিদ্যা ৪৬৬, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা ২৮০, মাইক্রোবায়োলজি ২৫৩, ফার্মেসি ২৪৬, মনোবিজ্ঞান ২০৪, মৃত্তিকাবিজ্ঞান ৩০৬ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ৪৮৫ জন ভোটার আছেন। বিজ্ঞান অনুষদে ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল ২০৭, রসায়ন ৬৩৫, গণিত ৭৫৭, পদার্থবিজ্ঞান ৫৪৯, পরিসংখ্যান ৭০৬ এবং বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভোটার সংখ্যা ৫০৩।

প্রকৌশল অনুষদে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৪৯৮ এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩৭১ জন ভোটার রয়েছেন। মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদে মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটে ২৭৮, ফিশারিজ বিভাগে ১৭১ এবং সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগে ১৬৫ জন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। শিক্ষা অনুষদের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগে ২৯৫ এবং আইন অনুষদের আইন বিভাগে ৮০০ জন ভোটার রয়েছেন।

চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়েছিল ২৮ আগস্ট। তপশিল অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় খসড়া ভোটার তালিকা এবং ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে আপত্তি। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। প্রতিষ্ঠার চার বছর পর ১৯৭০ সালে প্রথম চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মাত্র ছয়বার চাকসু নির্বাচন হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত