আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রান্তিক চার কৃষককে ব্যবসায়ী সাজিয়ে নিজ মালিকানাধীন ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে প্রায় ৩২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ পৃথক মামলাগুলো করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ পরিচালক সুবেল আহমেদ।
তিনি বলেন, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা গ্রামের সহজ-সরল চার কৃষক ও চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নুরুল বশর, মো. ইউনুস, ফরিদুল আলম ও মো. আইয়ূবের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবিসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তাদের অজ্ঞাতে তাদের নামে ভুয়া ও অস্তিত্ববিহীন একাধিক প্রতিষ্ঠান খোলেন। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ব্যাংক হিসেব খুলে ঋণ অনুমোদন করে সেই টাকা আত্মসাৎ করে পাচার করেন।
এসব মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬/৪-৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৯৪৭ এর ৫(২) ও মানিলান্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও (৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
চার মামলার মধ্যে নুরুল বশরের নামে এক কৃষককে বশর ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের আমদানিকারক সাজিয়ে ৮ কোটি টাকা ঋণ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগে মামলা করেছেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান। ওই মামলায় সাবেক ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, স্ত্রী রুকমিলা জামান, ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী ও আসিফুজ্জামান চৌধুরীসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিরা হলেন- ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, সঞ্জয় বোস, শ্রাবণ তহুরা, মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, হোসনি মোবারক জিকো, ইমতিয়াজ মাহবুব, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, তারানা আহমেদ, বজল আহমেদ বাবুল, এম.এ সবুর, ইউনুছ আহমদ, নুরুল ইসলাম চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী।
অপর মামলায় মো. ইউনুস নামে এক কৃষককে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ইউনাইটেড ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স গ্রহণ করা হয়। পরে সেটি দিয়ে সইবিহীন ও ভুয়া মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি হিসাব খুলে ৯ কোটি ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ঋণ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। এ মামলাটিতে ইউসিবিএল’র সাবেক পরিচালক বশির আহমেদকে প্রধান আসামি করে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি, আসিফুজ্জামান চৌধুরীসহ ব্যাংক কর্মকর্তা ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাঈনুদ্দিনের করা এ মামলায় বাকী আসামিরা হলো- ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ চৌধুরী, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, ইমতিয়াজ মাহবুব, বজল আহমদ, এম এ সবুর, ইউনুছ আহমদ, নুরুল ইসলাম ও বিএন্ডবি ইলেকট্রনিক্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান, দিদারুল আলম, মো. সুমন।
মো. ফরিদুল আলম নামে এক কৃষককে ইউনিক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ইলেকট্রনিক্স, কসমেটিকস ও খাদ্য পণ্যের আমদানিকারক সাজিয়ে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ভাই আনিসুজ্জামান রনি, আসফিকুজ্জামানসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারি পরিচালক মো. রুবেল হোসেন এর দায়ের করা এ মামলায় বাকি আসামিরা হলেন- ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আব্দুল আউয়াল, আবু বকর খান, জামাল উদ্দিন, জিয়াউল করিম খান, জাহিদ হায়দার, বজল আহমদ, এম এ সবুর, ইউনুছ আহমদ ও নুরুল ইসলাম চৌধুরী এবং আরামিট সিমেন্টের কর্মকর্তা মিছবাহুল আলম ও জাহাঙ্গীর আলম, আলোক ইন্টারন্যাশনালের প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, বশির আহমদের প্রতিষ্ঠান বিএন্ডবি ইলেকট্রনিকসের কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান ও দিদারুল আলম।
মোহাম্মদ আইয়ুব নামে এক কৃষককে মোহাম্মদীয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ইলেকট্রনিক্স ও খাদ্যদ্রব্যের আমদানিকারক সাজিয়ে পাঁচ কোটি ২০ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন এবং আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় আনিসুজ্জামান, রোকসানা জামান, আসফিকুজ্জামানসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারি পরিচালক সজীব আহমেদ।


