বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে রাইড শেয়ারিং করে যারা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে তাদের এখন চরম দুর্দিন যাচ্ছে। তেলের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং দৈনিক উপার্জন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় তারা পরিবারের ভরণ পোষণে হিমসিম খাচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পেট্রোল বা অকটেন নিতে ২/৩ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকার ফলে রাস্তায় ট্রিপ দেয়ার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না তারা। আবার, বাইকের জন্য তেলের সীমা নির্ধারণ করে দেয়ায় বারবার পাম্পে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অন্যদিকে যানজটের কারণে সাধারণ যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। তেল সরবরাহে রাইড শেয়ারিং চালকদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওয়ার্ড দায়িত্বশীলদের নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরী আয়োজিত ধারাবাহিক পর্যালোচনা বৈঠকের চতুর্থ দিনে চকবাজার, পতেঙ্গা, ইপিজেড ও বন্দর থানাধীন ৮ টি ওয়ার্ডের দায়িত্বশীলদের বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মতামত প্রকাশের জেরে ভোলা সদরের সোস্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট জামায়াত কর্মী সাওদা সুমি-কে গ্রেফতার ও হয়রানির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মতামত প্রকাশকে ‘অপরাধ’ গণ্য করা নাগরিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত। এত শাহাদাতের বিনিময়ে অর্জিত চব্বিশের জুলাই বিপ্লব কি তাহলে ব্যর্থ করে দেয়া হচ্ছে? ‘ভিন্নমত সহ্য করা হবে না’ মর্মে বার্তা দিয়ে কি নব্য ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু করা হলো? জেন-জিসহ বাংলাদেশের জনগণ পুনঃফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টাকে রুখে দাঁড়াবে। প্রতিবন্ধী শিশুর মা সাওদা সুমিকে মুক্তি দিয়ে আদালত সুবিচার করায় আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। সাজানো অভিযোগে রুজু করা মামলাটি প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
উক্ত বৈঠক আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, প্রফেসর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুর, ইপিজেড থানা আমীর আবুল মোকাররম, চকবাজার থানা আমীর আহমদ খালেদুল আনোয়ার, পতেঙ্গা থানা আমীর মুহাম্মদ সেলিম প্রমুখ
এতে চকবাজার, পতেঙ্গা, ইপিজেড ও বন্দর থানা জামায়াতে নেতৃবৃন্দসহ ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


