সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চট্টগ্রামে হাম রোগী বাড়লেও ল্যাবে নেই পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামে হাম-এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি বাড়লেও শনাক্তে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নেই পরীক্ষা। ফলে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়াদের নমূনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল) ল্যাবে। অথচ হাম রোগ শনাক্তের মতো ল্যাব রয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি)।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ৪ জনের শরীরে হাম রোগ শনাক্ত হয়। চট্টগ্রামে এ নিয়ে মোট ১২ জনের শরীরে হাম রোগ শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়াও গত চব্বিশ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৮৭ জন চট্রগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে ওই সময়ে জেলার উপজেলাগুলোতে হাম সন্দেহে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি।

অপরদিক, গত ২৪ ঘন্টায় পরীক্ষার জন্য ৩২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার এনপিএমএল ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ১৫৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার এনপিএমএল ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে নগরের ৭০ জন এবং জেলার বাসিন্দা ৮৫ জন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামে বর্তমানে ল্যাবে হাম রোগ শনাক্ত করা হচ্ছে না। চট্টগ্রামে ভর্তি হওয়া রোগীদের নমূনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল) ল্যাবে। সেখান থেকে দুই-তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট চলে আসছে।’

তিনি বলেন, হাম- ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে তখন হয়তো চট্টগ্রামে পরীক্ষার বিষয়টি আসবে।

এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া এক শিশুর পিতা জানান, নমুনা সংগ্রহের পর তিন চারদিন পর রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। রোগ নির্ণয়ে দেরি হওয়ায় চিকিৎসা শুরুতেও দেরি হচ্ছে। চট্টগ্রামে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে এ সমস্যাটি থাকতো না।

২০১৩ সালে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিআইটিআইডিতে হাম ও রুবেলাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ব্যবস্থা রয়েছে। এ হাসপাতালে রয়েছে অত্যাধুনিক রিয়েল-টাইম পিসিআর মেশিন এবং এলাইজা মেশিন। এছাড়াও যক্ষ্মা শনাক্তে জিন এক্সপার্ট, রক্ত পরীক্ষার জন্য অটোমেটেড অ্যানালাইজার মেশিনসহ বিশ্বমানের ‘রডলফ মেরিয়ো ল্যাবরেটরি’র সুবিধা এখানে রয়েছে।

বিআইটিআইডি’র অধ্যাপক ডা. মোঃ মামুনুর রশীদ বলেন, ‘৯৯ শতাংশ চিকিৎসকই রোগীর উপসর্গ দেখে হাম শনাক্ত করতে পারেন। হাম একটি পরিচিত এবং পুরাতন রোগ। হামের প্রধান তিনটি লক্ষ্মণের মধ্যে রয়েছে-বেশি মাত্রায় জ্বর, কাশি এবং শরীরে রেশ থাকবে। সাধারণত হাম রোগীদের রেশ মুখ এবং কান দিয়ে শুরু হয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। যে কারনে এসব লক্ষ্মণ দেখা গেলে বুঝা যায় তার শরীরে হাম হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিআইটিআইডি হাসপাতালের ল্যাবে হাম পরীক্ষা সম্ভব। তবে হাম-রুবেলা পরীক্ষার জন্য কীট নেই। কীটের জন্য ইতিমধ্যে আমরা ঢাকায় চিঠি লিখেছি। কীট এবং অনুমোদন পেলে পরীক্ষা শুরু করা যাবে।’

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত