মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Single Top Banner

নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজীর ইন্তেকাল: শোক জানাতে বাসভবনে জামায়াত নেতা আনোয়ারুল আলম চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের প্রবীণ আলেম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় আমির ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শুক্রবার (৮ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

তার মৃত্যুর খবরে ইসলামী অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমির জননেতা আনোয়ারুল আলম চৌধুরী শুক্রবার রাতে মরহুমের বাসভবনে ছুটে যান। সেখানে তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

এসময় উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান চৌধুরী মুহাম্মদ ছালেহ, মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সুইট ক্লাবের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এবং সমাজসেবক কাজী জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এসময় আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, “মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ আলেম, আদর্শবান রাজনীতিবিদ ও দ্বীনি শিক্ষার অক্লান্ত খাদেম। তার ইন্তেকালে দেশ একজন অভিজ্ঞ ইসলামী ব্যক্তিত্বকে হারালো।”

মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া গ্রামের নয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম আলহাজ হাকিমবক্স চৌধুরী।

স্থানীয় কওমি মাদ্রাসায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি তিনি সাধারণ শিক্ষায় ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবনে তিনি জমিয়তে তোলাবায়ে আরাবিয়া মুসলিম ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পদুয়া আল জামিয়াতুল আনোয়ার হেমায়েতুল ইসলাম মাদ্রাসাসহ বহু দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে ১৯৮৪ সালে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০০৭ সালে সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মজলিসে শুরার সভায় তিনি দলটির কেন্দ্রীয় আমির নির্বাচিত হন।

এছাড়াও তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির, শাহ ওয়ালীউল্লাহ একাডেমি চট্টগ্রামের পরিচালক এবং জামিয়াতুল আনোয়ার হেমায়েতুল ইসলাম কওমি মাদ্রাসা, পদুয়ার মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও সাত কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। তার ইন্তেকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত