চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় হালিমা আক্তার মুন্নি (২১) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
র্যাব সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানাধীন আধুনিক চক সুপার মার্কেটের সামনে অভিযান পরিচালানা করে পলাতক স্বামী হাফেজ মো. মিজানুর রহমানকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়। স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে পলাতক ছিল মিজানুর রহমান। অভিযুক্ত হাফেজ মো. মিজানুর রহমান আনোয়ারা উপজেলার বরৈয়া এলাকার মো. আব্দুল নবী মেম্বারের ছেলে।
সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, হালিমা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার তার পিতা আনোয়ারা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলায় মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গত রবিবার (১০ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পশ্চিম বরৈয়া গ্রামের কালু মাঝির বাড়ি থেকে হালিমা আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, মুন্নিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
নিহত গৃহবধূ হালিমা আক্তার মুন্নি একই উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসহাকের মেয়ে। নিহতের স্বামীর নাম মিজানুর রহমান।
র্যাব-৭ এর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হালিমা আক্তার চট্টগ্রাম আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চন মুন্সিবাড়ির মোহাম্মদ ইসহাকের মেয়ে। গত ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বরৈয়া গ্রামের হাফেজ মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে ভিকটিমের সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়। তাদের সংসারে মিশকাতুল জান্নাত নামে দেড় বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের দাম্পত্যজীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত, এ বিষয়ে একাধিকবার সামাজিক বৈঠকও হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায় সময় ভিকটিমের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ভিকটিম ও তার স্বামী কিছুদিন ভাড়া বাসায় থাকলেও সম্প্রতি শ্বশুরের অসুস্থতার কথা বলে হালিমাকে শ্বশুর বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। গত ১০ মে ভোরবেলা ভিকটিমের স্বামী মিজানুর রহমান ফোন করে ভিকটিমের পরিবারকে জানায় হালিমা আক্তার আত্মহত্যার করেছে। খবর পেয়ে ভিকটিমের বাবার বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে ভিকটিম তাদের শয়ন কক্ষের টিনের চালের বীমের সাথে ওড়না প্যাচানো ও ভিকটিমের পা মাটির সঙ্গে লেগে আছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। পরবর্তীতে স্থানীয় থানা পুলিশ খবর পেয়ে ভিকটিমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভিকটিম হালিমার আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে ভিকটিমের পরিবার দাবি করে।


