শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
Single Top Banner

রাঙামাটিতে “রাবিপ্রবি’র প্রকল্পে ‘নয়-ছয়’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান: তথ্য বিকৃতির দাবি প্রকল্প পিডি’র”

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি :

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) স্থাপন প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “১৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পে নয়-ছয়” শিরোনামের সংবাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, প্রকল্পের তথ্য আংশিক ও বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং প্রকৃত বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট্যরা। সংবাদ মাধ্যমে সোমবার বিকেলে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্প পরিচালক (ভা:) আব্দুল গফুর লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন;

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের প্রাথমিক বরাদ্দ ছিল ১১৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং বর্তমানে দ্বিতীয় সংশোধনী অনুযায়ী প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অথচ কিছু প্রতিবেদনে “১৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প” উল্লেখ করে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন বর্তমান প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল গফুর।

তিনি জানান, দীর্ঘ ১৩ বছরে প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অবশিষ্ট অর্থ এখনো ছাড় হয়নি এবং ব্যয়ও করা হয়নি। ফলে “সম্পূর্ণ টাকা লোপাট” বা “নয়-ছয়” ধরনের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পে এ পর্যন্ত চারজন প্রকল্প পরিচালক দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বিতীয় প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার সময়কালে প্রায় ৬৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়, যার বড় অংশ ভূমি অধিগ্রহণে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমান পরিচালক আবদুল গফুর জানান, তাঁর দায়িত্বকালে ব্যয় হওয়া অর্থের বড় অংশ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে প্রদান করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট অর্থ সড়ক উন্নয়ন, ভূমি উন্নয়ন, গেইট নির্মাণ, মাস্টারপ্ল্যান, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও পরিকল্পিত বনায়ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে।

৬৮ লাখ টাকা অগ্রিম গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি আর্থিক বিধি অনুসরণ করে প্রশাসনিক ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কাজে এসব অগ্রিম নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিল-ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করে নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় সম্পন্ন করা হয়েছে।

মাস্টারপ্ল্যান ও বড় আকারের ইঞ্জিনিয়ারিং নকশা অফিসের সাধারণ প্রিন্টারে সম্ভব না হওয়ায় বিশেষায়িত প্রিন্টিংয়ের জন্য চট্টগ্রাম থেকে প্রিন্ট ও কপি করানো হয়েছে বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

প্রকল্প পরিচালকের গাড়ির অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করে আবদুল গফুর বলেন, গাড়িটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত কাজে নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, অতিথি পরিবহন, উন্নয়নকাজ তদারকি এবং দাপ্তরিক সফরে ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি ভাইস চ্যান্সেলরের সরকারি গাড়ি অচল থাকায় দীর্ঘ সময় প্রশাসনিক কাজেও এই গাড়ি ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সভা, সাইট পরিদর্শন ও কারিগরি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য সরকারি নিয়ম মেনে আপ্যায়ন, যাতায়াত ও আবাসন ব্যয় করা হয়েছে বলেও জানায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইট ও নেইমপ্লেট নির্মাণে “কাজ শুরুর আগেই বিল” দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন এবং প্রকৌশলীদের যাচাই শেষে ধাপে ধাপে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতির জন্য যথাযথ আবেদন, পাবলিক কনসালটেশন সভা এবং সরকারি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করা হয়েছে। পরিকল্পিত বনায়নের প্রতিটি কাজের ছবি, কোটেশন ও বিল-ভাউচার সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুর বলেন, “এটি একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। ডিপিপি প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সরেজমিনে সবকিছু যাচাই করা যেতে পারে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত