বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

পলাতক খুনিদের ফেরাতে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে : কাদের

বিশেষ প্রতিনিধি: বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের ফিরিয়ে আনতে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে এক আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের এই সভায় ওবায়দুল কাদের তাঁর সংসদ ভবনের বাসা থেকে যুক্ত হন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আছেন বলেই ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে, জাতির কলঙ্ক মোচন হয়েছে। সেই আত্মস্বীকৃত খুনিরা শত আশ্রয়-প্রশ্রয়েও প্রটেকশন পায়নি জনতার কাছে। আদালতের রায়ে ফাঁসিতে ঝুলেছে খুনিরা। জনগণের ধিক্কার আর ঘৃণাই আজ খুনিদের প্রাপ্য।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘যারা লুকিয়ে আছে তাদেরও ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে, ইনশাআল্লাহ। ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একটি স্বাধীন দেশে সপরিবারে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডকে মধ্যযুগীয় কায়দায় ডকট্রিন অব নেসেসিটির কথা বলে যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধতা দিয়েছিল, তারা আজ অপপ্রচার চালায় দেশে ন্যায়বিচার নেই বলে। ন্যায়বিচার তো দূরের কথা, ২১ বছর তো আমরা বিচারই চাইতে পারিনি। সে অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তারা আজ মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়।’

‘কারা একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে? সেদিন প্রাইম টার্গেট ছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৭৫-এর বুলেট ২০০৪ সালে ফিরে এসেছে গ্রেনেড হয়ে। যখন জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছিলেন, আলামত নষ্ট করেছিলেন, তখন আপনাদের ন্যায়বিচার কোথায় ছিল?’

খুনিরা তাদের ষড়যন্ত্রের জাল এখনো ছড়িয়ে রেখেছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশে-বিদেশে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। তলে তলে প্রস্তুতি নিচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। এ দেশের রাজনীতিতে হত্যা, সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র আর সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার তাদের হাত ধরেই। এখনো তারা সে অপচর্চা অব্যাহত রেখেছে। তাই বলব, ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা।’

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি দুর্নীতির কথা বলে। আপনাদের সময় পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের মানুষকে লজ্জা আর হতাশার সাগরে ডুবিয়েছিলেন। দুর্নীতির বরপুত্র হাওয়া ভবনের নামে প্রতিষ্ঠা করেছিল এক খাওয়া ভবন। কী খাননি আপনারা? খাম্বা থেকে শুরু করে এতিমের টাকা পর্যন্ত খেয়েছেন। আর আজ দুর্নীতির কথা বলেন!’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু পরিবার সততার উদাহরণ। শেখ হাসিনা যেমনি অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন, তেমনি যেকোনো হত্যাকাণ্ডের বিচারেও তিনি অপরাধীর দলীয় পরিচয় খুঁজেননি। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখেছেন।’

এ সময় শেখ হাসিনার সরকার নারীবান্ধব সরকার উল্লেখ করে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান মন্ত্রী।

মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত