দক্ষিণ এশিয়ার এক বিশাল সংখ্যক মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশ যদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে একে অপরের হাত ধরে যদি এগিয়ে যাই, তাহলে অবশ্যই এ অঞ্চলের মানুষকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি উন্নত জীবন দিতে পারব।
আজ সোমবার (২২ মার্চ) জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ষষ্ঠ দিনের অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের পর্যাপ্ত সম্পদ আছে। আমরা যদি সম্পদের সঠিক ব্যবহার করি তাহলে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। বর্তমান যুগ বিশ্বায়ানের, বিশ্বে একা চলার কথা চিন্তা করা যাবে না। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করলে আমরা দারিদ্রমুক্ত দক্ষিণ এশিয়া গড়তে পারবো।
জলবায়ুর পরিবর্তন আমাদের এ উপমহাদেশের দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি নাজুক করে তুলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, জলবায়ুর পরিবর্তন আমাদের এ উপমহাদেশের দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি নাজুক করে তুলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের ভূমিকা না থাকলেও আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা অভিযোজনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে নিজেদের রক্ষা করতে পারি, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা বন্ধ করা না গেলে অভিযোজন প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি অঞ্চলে বসবাস করি, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশগুলো যেমন ভূমিকম্প, ক্লাউড ব্রাস্ট, বরফ ধস, ভূমিধস, ফ্লাস ফ্লাড বা হরকা বান ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ, তেমনই বাংলাদেশের মতো সাগর-উপকূলবর্তী অঞ্চলসমূহ বারবার বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, অতিবৃষ্টি বা খরার মতো দুর্যোগের সম্মুখীন হয়।
এসময় তিনি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এই শুভ মুহূর্তে আমি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববাসীকে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপালও উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেপালের সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানান।


