বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

লেকসিটি প্রকল্পের ৯৮ প্লট বঞ্চিতদের আমরণ অনশনের হুশিয়ারি 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক লেকসিটি প্রকল্পে, ৯৮ প্লট বঞ্চিতদের অবিলম্বে প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্লট বঞ্চিতরা। আগামী রমজানের মধ্যে আমাদের দাবী বাস্তবায়নে কোন দৃশ্যমান উদ্দ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী ঈদুল ফিতরের পর আমরা চসিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও আমরণ অনশনসহ শান্তিপূর্ণ কঠোর কর্মসূচির ঘোষনা দেন তারা। আজ সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষনা দেন প্লট বঞ্চিতরা।

এসময় প্লট বঞ্চিতদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন লেকসিটি প্রকল্পের প্লট বঞ্চিত গ্রাহক গ্রাহক মো. আব্দুল হক, মোঃ সালাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ নইমুল আলম, নূরুল আলম, মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, মিসেস রোকেয়া বেগম, মোঃ আব্দুল মান্নান, শফি আহমদ চৌধুরী, মিসেস সফুরা বেগম, সীমা বড়ুয়া, মো. নুরুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম নগরীকে সুন্দর, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য আবাসস্থল হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিগত ২০০৬ সালে ‘‘আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে’’, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক লেকসিটি হাউজিং প্রকল্পের প্লট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে আবেদনপত্র গ্রহণের শেষ দিন অবধি, আনুমানিক ৫৪৮টি আবেদন জমা পড়ে। বিগত ২০০৯ সালে মাত্র ৭-১০ দিনের নোটিশে, সকল গ্রাহক হতে সম্পূর্ণ প্লটের বকেয়া মূল্য, সিটি কর্পোরেশন বরাবর পে-অর্ডার আকারে গ্রহন করেন। আমাদের বেশিরভাগই সেই সময়, কারো গ্রামের সম্পত্তি, কারো পেনশনের টাকা, কারো বিদেশি কষ্টার্জিত অর্থ, কারো শেষ সম্বল স্ত্রীর গয়নাগাটি ইত্যাদি বিক্রি করে পূর্বঘোষিত মূল্য ছাড়াও, পরবর্তীতে উন্নয়ন চার্জ বাবদ প্লটপ্রতি অতিরিক্ত দুই লক্ষ টাকাসহ সম্পূর্ণ মূল্য (প্রথম দফার প্রজ্ঞাপন অনুসারী গ্রাহকগণ সর্বমোট ১৭ লক্ষ টাকা/প্লট এবং দ্বিতীয় দফার প্রজ্ঞাপন অনুসারী গ্রাহকগণ সর্বমোট ২২ লক্ষ টাকা/প্লট, “মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন” বরাবর পে অর্ডারের মাধ্যমে) পরিশোধ করেছিলেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন লেকসিটি হাউজিং এষ্টেট শাখা প্রধান, নিজস্ব ব্যাংক হিসাব নম্বরে রাজস্ব খাতে সমূদয় টাকা গ্রহন করেন। এরই মধ্যে কয়েক দফায় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতার পটভূমি পরিবর্তন হয় আর লেকসিটি হাউজিং প্রকল্প দীর্ঘসুত্রিতার বেড়াজালে জড়িয়ে পড়ে। পরে জানতে পেরেছি, লেকসিটি হাউজিং প্রকল্পে, ৪৫০ জনের তালিকা করে, প্লট “এ” এবং প্লট “বি” এর মালিকানা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি ৯৮ জনের প্লটের এখনো কোন প্রকার সুরাহা না করাতে আমরা সবাই অনিশ্চয়তায় ভুগছি।

গত ২০২২ সালের ২৪ জুলাই আমাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গত ১৪ আগস্ট ২০২২ইং’এ বর্তমান মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী আমাদের সকলকে ডেকে এই বলে আশ্বস্থ করেছিলেন যে আগামী ৬ মাসের মধ্যে(১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ইং) ঊনি প্লট সংক্রান্ত ব্যাপারে দৃশ্যমান উদ্দ্যোগ গ্রহন করবেন। কিন্তু আজ ৭ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও মাননীয় মেয়য় মহোদয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোন পজিটিভ সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আমাদের দাবী সম্পূর্ণ বাস্তবানে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, গণপূর্ত মন্ত্রী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সিডিএ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, লেকসিটি হাউজিং প্রকল্প প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃস্টি কামনা করছি।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত