মো: নাজিম উদ্দীন
“জীবন নামের ঝুলন্ত থলি থেকে”, পর্ব-০৩
২০০৫ সালের কথা। জিন্দা বাজার, জেলা কালেক্টরেট মোড় এলাকায় মোবাইল ডিউটি অফিসার আমি। তৎসময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী জনাব শা.এ.এম.এস.কিবরিয়া জঙ্গী গোষ্ঠীর হাতে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সর-গরম চলছিলো সিলেট সহ সারা দেশ।
সূত্র মোতাবেক সব মোড়ে মোড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কিছু কিছু পয়েন্টে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে রিক্সা চলাচল। জিন্দা বাজার মোড়ে এসে দেখি এক মজ্জুব টাইপের মানুষ রিক্সা নিয়ে যাবেন। তাঁর আচরণ আমার অন্তরাত্মা’র অনন্ত গহীনে জানান দিতে থাকে, যে তিনি যাবার, সুতরাং বাঁধা নয়। আমি আদব রক্ষা করে যথা সম্মানে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দিলাম।
এরপর পর তাঁরই মধ্যে গোচরীভূত হয়েছে অনেক আধ্যাত্মিক বিভূতি। মা আমার জীবনের বাস্তবতায় সত্যিই বিস্ময়কর। কে না জানে (?) তার আদেশে গিয়েছিলাম তাঁরই বাড়িতে, আঁতকে উঠার মতো অনেক কিছু রয়েছে তাঁর জীবন চরিত বিশ্লেষণে। একটি ছবি রাখতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি, বরং তিনি হাসছিলেন, কোন ছবিই ক্যেমেরাবন্দী হয় নি, এটাও ক্বারামত এর ঊছিলা বলেই আমার বিশ্বাস বিশ্বাস।
প্রথমেই আমাদের (স্ব-পরিবারে) ঢুকতে হলো মায়ের জিয়ারতে, যেখানে এক বন্ধ ঘরের ভিতর অন্ধকার কবরের ভিতর আরেক কবর। সেখানেই তিনি এবাদতে রত থাকেন, যতোক্ষণ বাড়ির ভিতর থাকেন। জেয়ারত শেষে আমাদের জন্য যথাসাধ্য মেহমান দারী তে বসে পরলেন চীর কুমার অথচ বয়োবৃদ্ধ মামা সহ বোন, ভাতিজা ও স্বজনকূল।
মামা’র কথা মূলে এটা “মা আমেনা (র:)’র কোর্ট’ । আমিন। আপনিও একবার ঘুরে আসতে পারেন, সিলেট হযরত শাহ্ পরান ইয়ামনী শাহ্ (র:) এর পবিত্র মাজার শরীফ এর ঠিক পূর্ব দিকে খাদিম নগর এর খাদিম পাড়া এলাকায় এ কোর্ট প্রাঙ্গণ স্বাতন্ত্র্য পবিত্রতায় বিদ্যমান।
এ বর্নণা টা ছিলো এ সূত্র বিশেষ, কেননা, মা আমেনা’র আদালত এর খবর কোথাও না পেলেও আজ আমি সচক্ষে অবলোকন করেছে! সত্যি বলছি মায়ের আদলে সত্যি মাতার সন্ধান পেয়েছি। আমি। যেমন বিচারের দাঁড়িপাল্লা, তেমনই উচ্চ মার্গীয় কৌঁসুলি বৃন্দের চুঁলচেঁড়া বিশ্লেষণ, একই সাথে যোগ্য মোক্তার , আমি অভিভূত, বিষ্মিত, একই সাথে বিমর্ষও বটে।
এহেন পরিস্থিতিতে মানবতা বিপন্ন বৈ উদ্ধারের স্লোগান অপাঙ্ক্তেয় বৈ কী..? তথাপিও মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে ফরিয়াদ একটাই , রহমানুর রহিম তো তিনিই, যিনি এই সকল কিছুর নিয়ন্তা….! আমিন।


