রুদ্ধশ্বাস এক ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ধরে রাখল পিএসজি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে ১-১ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।
শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় বুদাপেস্টের পুসকাস স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরুতেই চমক দেখায় আর্সেনাল। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে কাই হাভার্টজের গোলে এগিয়ে যায় ইংলিশ ক্লাবটি। হঠাৎ পাওয়া সেই ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধে আর সমতায় ফিরতে পারেনি পিএসজি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৬২তম মিনিটে খিচা কাভারাস্কেইয়াকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। স্পট-কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে সমতা ফেরান উসমান দেম্বেলে।
এরপর একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ফরাসি জায়ান্টরা। ৭১ মিনিটে হাকিমির ক্রস থেকে দেম্বেলের প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সাত মিনিট পর কাভারাস্কেইয়ার দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টা লুইস-স্কেলির ডিফ্লেকশনে পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
শেষদিকে মিকেল আরতেতা ট্রসার্ড ও বুকায়ো সাকাকে তুলে নামান ননি মাদুয়েকে ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলিকে। অন্যদিকে লুইস এনরিকে কাভারাস্কেইয়ার বদলে মাঠে নামান বারকোলাকে। যোগ করা সময়ে বারকোলার দারুণ এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দল জয়সূচক গোল করতে না পারায় শিরোপা নির্ধারণের দায়িত্ব পড়ে টাইব্রেকারের ওপর।
টাইব্রেকারে প্রথম শটেই গোল করেন পিএসজির গনসালো রামোস। আর্সেনালের হয়ে জবাব দেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। দ্বিতীয় শটে সফল হন দেম্বেলে। কিন্তু আর্সেনালের হয়ে শট নিতে এসে ভুল করেন এথান নওয়ানেরি, যা দলকে চাপে ফেলে দেয়।
যদিও ডেভিড রায়া নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে আর্সেনালকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন, শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি। দুই দলের পরের শটগুলো সফল হওয়ার পর শেষ শটে আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল চরম চাপের মুহূর্তে বল উড়িয়ে মারেন বারের ওপর দিয়ে।
আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পিএসজি শিবির। টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট নিজেদের দখলে রাখে ফরাসি ক্লাবটি। অন্যদিকে আরেকবারের মতো ইউরোপিয়ান শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায় আর্সেনালের।


