শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
Single Top Banner

বন্যার্তদের পুনর্বাসনই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী

আবছার উদ্দিন, লোহাগাড়া প্রতিনিধি :

দক্ষিণ চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের টেকসই পুনর্বাসনই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণই নয়, ক্ষতিগ্রস্তরা যতক্ষণ না স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন, ততক্ষণ সরকারের পুনর্বাসন কার্যক্রম পুরোদমে অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ সব কথা জানান।

পরিদর্শনকালে দুর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রায় সাত লাখ মানুষ বন্যার শিকার হয়েছেন, তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া জরুরি পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন:৪০ হাজার পরিবারকে চাল বিতরণ করা হয়েছে।৭৫ হাজার পরিবারকে চাল-ডালসহ শুকনা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। ৪০ হাজার পরিবারকে রান্না করা খাবার দেওয়া হয়েছে।

প্রয়োজন অনুযায়ী এই খাদ্য ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।ক্ষতিগ্রস্তদের চিরতরে দুর্যোগের ধকল থেকে টেনে তুলতে সরকারের নানামুখী পরিকল্পনার কথা জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, যাদের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের নতুন করে ঘর তোলার জন্য টিন সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের আবারও স্বাবলম্বী করতে বিনামূল্যে বীজ, সারসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত চাষাবাদ শুরু করতে পারেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপণ করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

বন্যার মূল কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আমির খসরু বলেন, “কোথাও রেললাইন, কোথাও অপরিকল্পিত স্থাপনা, পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা নাকি অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত—বন্যার পেছনে মূল কারণ কী, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে যাতে এমন ক্ষয়ক্ষতি আর না হয়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এলাকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত