বিশেষ প্রতিনিধি: দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেই বদলি! তারপর আবারও অনিয়মে জড়ানো, আবারও বদলি। এই যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের অপকর্মের শাস্তি। অথচ প্রচলিত আইনে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে প্রশাসনিক ও ফৌজদারি মামলা করার মতো কঠোর বিধান রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীর যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় প্রশাসনের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বদলি সাময়িক বরখাস্ত ওএসডি শব্দ তিনটিই কানে বাজে। গত তিন মাসে গণমাধ্যমে এমন সাড়ে ছয়শ ঘটনার খবর প্রকাশ হয়েছে।
এমনকি রিজেন্ট-জেকেজির মতো প্রতারণার সাথে জড়িত স্বাস্থ্যের কর্মকর্তাদেরও কেবল অন্যত্র বদলি করে দায় সেড়েছে প্রশাসন। প্রশ্ন উঠেছে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে বদলি কিংবা সাময়িক বরখাস্তই কি একমাত্র শাস্তি? আইনজীবীরা জানান, দুর্নীতি দমনে বদলি কোনো শাস্তি নয়। এর জন্য প্রশাসনিকের পাশাপাশি আছে আইনগত ও ফৌজদারি ব্যবস্থা।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ মাহমুদ বাশার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরে দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটা অনুসন্ধান করবেন। অনুসন্ধানে যদি সত্যতা পাওয়া যায়। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে যাবেন এবং তদন্তের যদি সত্যতা পাওয়া যায়। তখন দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের নিয়ম অনুসারে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। বিচার প্রক্রিয়াটি হবে দুর্নীতি দমন কমিশনের ২০০৭ বিধিমালা অনুযায়ী। অভিযুক্তদের ৪০৬ এবং ৪২০ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। কারণ, জনগণ, রাষ্ট্র, প্রশাসন তাদের উপর বিশ্বাস করে এই দায়িত্বটা দিয়েছিলেন, যা তারা ভঙ্গ করেছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে ৪০৬ ধারায় মামলা করা হবে। আর জনগণকে প্রতারণা করে যে আর্থিক লাভবান হয়েছেন সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে ৪২০ ধারায় মামলা হবে। তখন তাকে চাকরিতে রাখা যাবে না। ওএসডি বা বদলি কিংবা সদর দপ্তরেও রাখা যাবে না।
নাগরিক উন্নয়ন কর্মী ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, দুর্নীতি রোধে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।
তিনি বলেন, দুর্নীতি একটা ব্যাধি, এই ব্যাধি দূর করার জন্য যথাযথ ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। আর এই ওষুধ প্রয়োগ হচ্ছে শাস্তি। দুর্নীতি করে যদি কেউ পার পেয়ে যায়, তার কোনও কঠিন শাস্তি না হয়। তাহলে অন্য কেউ এটা দেখে দুর্নীতি করতে উৎসাহ পাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন দুর্নীতি রোধে এখনই সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। নয়তো বড় অর্জনগুলো দুর্নীতি নামক সেই পোকার পেটে যাবে। আগামী প্রজন্মকে যার চড়া মূল্য দিতে হবে।


