বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

হত্যা-ধর্ষণের দেড় মাস পর জীবিত ফিরলো কিশোরী, ৩ জনকে ফাঁসিয়েছে পুলিশ!

বিশেষ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে পরিবারের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও ঘটনার দেড় মাস পর ওই স্কুলছাত্রী জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবারে স্বস্তি ফিরে এলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিন আসামির পরিবার। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের তদন্ত ও আসামিদের জবানবন্দি দেয়ার বিষয়ে। তবে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান।

শহরের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী গত ৪ জুলাই বিকেলে তাদের বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজি করে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে এক মাস পর ৬ আগস্ট থানায় অপহরণ মামলা করেন নিখোঁজ হওয়া ছাত্রীর বাবা।

এ ঘটনায় সেই ছাত্রীর মায়ের মোবাইলফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে গত ৭ ও ৮ আগস্ট পুলিশ একই এলাকার রকিব, আবদুল্লাহ ও খলিল নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। যাদের মধ্যে খলিল নৌকার মাঝি। গ্রেপ্তারের পর এই তিন আসামি দুই দফা রিমান্ড শেষে সেই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করে ৯ আগস্ট আদালতে জবানবন্দি দেয় বলে পুলিশ সে সময় গণমাধ্যমকে জানায়।

বর্তমানে আসামিরা জেলহাজতে রয়েছেন। তবে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) মোবাইলফোনে খবর পেয়ে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকা থেকে ওই কিশোরীকে জীবিত ফিরে পাওয়ার পর তার বাবা-মা বিষয়টি রাতে সদর থানায় গিয়ে জানান।

কিশোরী মা বাবা বলেন, আমার মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে বাড়ি থেকে পালিয়ে অন্য এক যুবকে বিয়ে করে এবং তার স্বামীর সাথে সে দেড় মাস যাবত ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। এখন আসামিদের বিরুদ্ধে তাদের আর কোনও অভিযোগ নেই এবং মামলাটি তারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিন আসামীর ১৫ দিন যাবত কারাগারে থাকা ও জবানবন্দি দেয়ার বিষয়টিসহ পুলিশের তদন্তের ব্যাপারে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আসামীদের স্বজনরা বলছেন, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম রিমান্ডে তিনজনকে মারধর করেছেন এবং আমাদের তিন পরিবারে কাছ থেকে তিনি ৪৭ হাজার টাকাও নিয়েছেন। আমারা পুলিশের এই কর্মকর্তার বিচার দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ আসামিদের জবানবন্দির বিষয়টি ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করা হবে। পাশাপাশি বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের আশ্বাস দেন জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত