বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

গল্পের শুরু টা না হয় পরে!

জীবন নামের ঝুলন্ত থলি থেকে, পর্ব-০৭

এবার গতানুগতিক ধারা থেকে একটু আলাদা মনে হবে, কেননা আমার এক প্রিয় ভাজনেষু তাহের ভাই। তিনি বেজায় ভালোবাসেন আমায়, সেই ২০১৩ সাল থেকেই। হিসেবের খাতায় গুনে গুনে সাত বছর প্রায়ই অতিক্রান্ত হতে চলেছে।

মহাসড়কে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে মূহুর্মূহু। কর্মস্থল কাঁচপুর হাইওয়ে থানা। লাঙ্গলবন্ধ এলাকায় মোবাইল ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে সাময়িক অবস্থান করার সুবাদে তাহের ভাইদের সাথে আত্মস্থ মিলনের ষোলোকলা।

বেজায় অতিথি পরায়ণ, হৃদয়ের আত্মস্থ মেলবন্ধনের স্বরুপ যেনো নিরেট অকৃত্রিম ভালোবাসায় টই টুম্বুর। যারপরনাই সামর্থ্য সংকট এর মধ্যেও যেনো নির্মোহ ভালোবাসায় পরিপূর্ণ প্রতিটি ব্যক্তির ঝলসানো উজ্জ্বল চেহারা। আর অতি ব্যস্ততাই বলে দিচ্ছে ওরা কতোখানি উদারমনষ্ক হৃদয় এর পবিত্রতা ধারণ করে। আমি তাদের ঘরে প্রবেশ করবো, এ যেনো অমাবশ্যার চাঁদ। আপনা মাঝে কিয়ৎ লজ্জিত বোধ করলাম। ভাবী, বিবাহিত কন্যা, বিবাহ যোগ্য কন্যা থেকে মাশ্ আল্লাহ্ (!) আকাশের চাঁদ পাওয়ার ন্যায় আপ্লুত।

আপাদমস্তক নির্মোহ ভালোবাসা ও উদার মানসিকতার মশাল আমাদের তাহের ভাই। পেশায় তিনি সাঁপুরীয়া, বেদে সম্প্রদায়ের এ নিরঙ্কুশ ভালোবাসার মানুষ গুলো আমার অন্তরাত্মা ছুঁতে অনায়াসে সক্ষম হয়েছিলেন !যেখানে পুলিশের সদস্য নাম শুনলেই বারো হাত পিছন থেকে অগোচরে সঁটকে পড়া জাতি হয়েও কেনো যে, আমার প্রতি এতোটাই অষ্পর্শ এক হৃদস্পন্দন অনুভব করেন তাঁরা (!), সে কথা বরাবরই সম্মানের সাথে এড়িয়ে বেশ বিচক্ষণতা লক্ষণীয় ব্যপার।

যত্ন-আত্মী’টা এমন যে, কেউ শরীরের ব্যবাক শিঙ্গা লাগায়, পঁচা রক্তের মতো কী যেনো বের করে আনে, রীতিমতো স্বর্গসূধায় নির্বিঘ্ন ঘুম থেকে উঠেই দেখি, বেলা তখন দৃষ্টিবধ্ অন্ধকারে নিমজ্জিত। না ভয়ের কিছু নেই, হরেক রকম রুচির বাহারি খাবার নিজস্ব সংষ্কৃতিতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে, ঘুম জাগার অপেক্ষায়।

একদিন আমার এক সহকর্মী মোবাইল ডিউটি করাকালে মহাসড়কে ডিউটি এলাকায় নির্মম দূর্ঘটনায় নিহত হন এক কোমলমতি শিক্ষার্থী। বিধি বাম ! স্থানীয় জনতার ক্ষোভের আগুন এ মহাসড়ক অবরোধ। বিচলিত সহকর্মী পরামর্শ চাইলেন। আমি সদাশয় তাহের ভাই কে অবগত করলাম, যেই কথা সেই কাজ ! মূহুর্তে অবরোধ প্রত্যাহার। সচল মহাসড়ক। আমি একটু আবেগ প্রবন, তাই, ভালোবাসার মানুষ’দের ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অভ্যেসে বধ্ উপলব্দ করি। তাই শুধুই নিরন্তর শুভকামনা আর ভালোবাসা, ঐ নির্মোহ গো-বেচারা তাহের ভাই সম্প্রদায়ের জন্য।

আর ঘৃণা তাদের জন্য, যারা এ দেশের মানুষের হ্বক রুটি রুজির অংশ থেকে পরিশোধিত ট্যেক্স এর টাকা থেকে বেতন ভাতা গ্রহণসহ সরকারি বড় চেয়ার দখল করে আছে, অথচ এদ্যেশের স্বাধীনতা কে তুচ্ছতায় বশীভূত করে মূহুর্মূহু ! মুক্তিযুদ্ধের, মুক্তিযোদ্ধা’র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র কথা শুনলেই গাঁ জ্বালা পোড়া করে ঘৃণা তাদের প্রতি।

ঘৃণা তাদের প্রতি, যারা নিজেদের অবলীলায় ক্ষমতাধর মনে করে, নিজেদের ক্ষ্যেমতা আপন জনের বিরুদ্ধে প্রদর্শন করতে কূ-মানসিকতা পূর্ণ লালসা চরিতার্থ করতে মেতে উঠে, অথচ আগামী প্রজন্মের নিষ্পাপ দুই শিশুর জীবনের সপ্তকাহণ দলিত মথিত করে আগামীর দুই সম্ভাবনা ময় কর্ণধার কে ঝালাই করে পিতৃহীন অপাঙ্ক্তেয় করার দীক্ষায় বলীয়ান, ঘৃণা তাদের প্রতি। জয় হউক তাহের ভাই সম্প্রদায়ের কোমল মানসিকতা’র। জেগে উঠুক আরেকটি বার সুস্থ্য মানসিকতার বিকাশ। অবদমিত হউক যত্তো সব হীন মনোবৃত্তির। ঝলসে উঠুক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আগামীর বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার প্রতিটি মায়ের মুখে ফুটে উঠুক সত্যিকারের স্বাধীনতার সুখ ময় সোনালী হাঁসি…!! অবশেষে স্লোগান হউক দৃপ্ত শপথ এ বলীয়ান, “মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বীর বাঙ্গালীর অহংকার, শোষিত মানুষের সমাজ গড়তে যুদ্ধ হবে বারংবার” !!

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত