বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

গল্পের শুরু টা না হয় পরে.!

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন নামের ঝুলন্ত থলি থেকে, (পর্ব-০৮) !

“কোথায় স্বর্গ,
কোথায় নরক
কে বলে তা বহুদূর,
মানুষের’ই মাঝে স্বর্গ-নরক
মানুষেতে সুরাসুর” !!
কবি শেখ ফজলুল করিম এরই বগল তলে “ইয়াজুজ মাজুজ” বসত গড়ে তুলতে পারে, এ যদি কবির ভাবনায় ক্ষণকালেও উঁকি দিতো (!) সম্ভবত: লজ্জিত বদনে স্বহস্তে মুছতে দ্বিধাণ্বিত হতেন না এই কালজয়ী নন্দিত মহা কাব্য। কেননা, ষোল বছরের তিলে তিলে গড়ে তোলা অন্যের সংসারের মধুময় জীবন যাপন এর হালচুকিয়ে দিতে পারে শুধু মাত্র আড়াই কাঠা জমির লালসা ! বলী হয়ে যেতে পারে কোমলমতি দু’শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

রক্তচোষা কেয়াল্লিশ (স্থাণীয় ভাষায়) এর ন্যায় একটা নিরেট নির্মোহ চরিত্রে বলীয়ান, স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ’কে দীর্ঘ দিন থেকে সুকৌশলে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ এর কূট কৌশল অবলম্বন করে কূৎসা ছড়িয়ে দেয়া, পারিবারিক সামাজিক ভাবে কৌশলে প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে যাওয়া। অবলীলায় ছলনাময়ী ভালোবাসার ভান করে তলে তলে গাছের গোড়া কর্তনে মত্ত থাকার অন্তরালে গুঁজে আছে, পতি হননের প্রাণান্ত চেষ্টা। কারণ অতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপন কূৎসিৎ মানসিকতা “শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা” বৈ অন্যথা কৈ ?

ভাবতে অবাক লাগে, আপন কন্যার সংসারের হাল চুকিয়ে দেবার ঘৃণ্য প্রয়াস, কি করে সম্ভব (!) ডা: খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এর মেধাবী মায়ের বুকের ধন কেড়ে নিয়ে, সেন্ট মেরিস স্কুলের মেধাবী কোমল মতি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিঞ্চিৎ বিচলিতও করে না, যে কূলাঙ্গার অভিভাবক এর, সে বা তৎসংলগ্ন শুয়োরের পালের একটি বারও কি চিন্তিত করে না (!) অবাক লাগে নিলর্জ বেহায়াপনার সীমা অতিক্রম করতে কতোটুকু পিশাচ করে তোলে ইত্তবধ্ সম্প্রদায়কে। যে নির্মোহ ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে (ই)স্ত্রী কে বিনা শর্তে বিনা ওজরে সাফ কবলা আড়াই কাঠা যায়গা কিনে দিতে পারে, শুধু পর মূখাপেক্ষিতার যাঁতাকল মুক্ত রাখতে, তার কোনো কৃতজ্ঞতা বোধ তো দূরের কথা, বরং তাঁকে বেজন্মা সম্প্রদায়ের আদলে উল্টো যাঁতাকলে পিষ্ট করতে মানুষ নামের জানোয়ার এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অশুড়বৃত্তি চরিতার্থ করতে মেতে ওঠে নিকৃষ্টতম উদাহরণ সৃষ্টির মাধ্যমে, এ আমার ক্ষীণকালেও অনুমেয় হবার কথা নয়।

বরাবরই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যের কূ-পরামর্শে পরিচালিত হতে পারে একজন ষোল বছরের দীর্ঘ সময় ধরে মধুময় সংসারের ঘরণী, এ যাবৎ কোনোও জড়বস্তু ব্যতীত আত্মবিবেক বিকৃত কোনোও আদম কূল পরিলক্ষিত হয় নি। ষোল বছরের মাথায় পেশাগত জীবনে একটি হোঁচট খেয়ে প্রায়ই এক বছর বিনা ওজরে নানা বাহানায় ঝুলে থাকা চাট্টিখানি কথা নয়। মানসিক চাঞ্চল্য স্থবির হয়ে পড়া মামুলি সাধারণ ব্যপার।

এই এক বছরে সংসারের ঘানি টানতে আপন মনে আত্মহ্বজম করে সমুদয় মনোবেদনা আপনাতেই ছাপিয়ে গিয়ে, হাল-সূরতের সমগ্র বিষয়াদি যথার্থ সজাগ থাকার লড়াইয়ে কিয়দাংশ হলেও কৃতিত্বের দাবিদার আমার মাতৃ দেবতা, ভ্রাতা-ভগ্নি গন। কেননা, হাল সমেত একটা উদাহরণ টানলেই প্রতীয়মান হয় মৌলিক চিত্র। গত ১২ই আগষ্ট’১৯খ্রি: তারিখে ঈদুল আজহার দিন ছিলো। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের তৎকালীন চলমান সাম্প্রদায়িক সংকটে স্বীয় এলাকায় এর প্রভাব মোকাবেলায় “বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী খায়ের-জাহান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট” কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১৩ই আগষ্ট’১৯খ্রি: তারিখে আয়োজিত স্মৃতি প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের আমেজ মিডিয়ার বদৌলতে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বিশ্বের আনাচে কানাচে।

মিডিয়ার খবর মূহুর্মূহু ছড়িয়ে যাওয়া কারো কারো বেজায় মৃগী রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। অথচ এ যাবৎ আমি যাকে মা বলে সম্মোধন করে এসেছি, সেই স্নেহাষ্পদ দৃষ্টি কূলে লালিত কন্যা আমার ইনবক্সে হঠাৎ মেসেজ পাঠাতে দ্বিধাণ্বিত হলেন না এই বলে যে, “এ সব ফালতু কাজে অপচয় না করে বরং, দুই শিশুর জন্য ভালো ভালো টিচার দেওয়া, আর ভালো ভালো খাবার খেতে দিলে ভালো হতো না ?(!), আরও অনেক কিছু….! মাতৃ সুলভ মমতা জড়িয়ে, মমত্ব পূর্ণ আংশিক উত্তর দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে গেলেও ব্যথিত করেছিল অন্তরকে। বাসায় এসে বাবুদের শিক্ষক সংকট, খাওয়ার বিষয়ে কৌশলে জেনে নিই, এবং হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।

(ই)স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম আমাদের ভূতপূর্ব প্রায়ই এক বছর এর দু:সময়ে তার বাপের বাড়ী পক্ষে তার অগোচরে হলেও কেউই কোনোও রুপ প্রণোদনা, করুণা বা সৌজন্যতা যে কোনোও ভাবেই হোক, হয়তো তুমি অসৌজন্যতা এড়াতে পাশ কেটে যেতে সক্ষম হওনি, আবার আমার গোচরীভূত করে আমাকেও কষ্ট দিতে চাওনি (!) এমনই কোনো জটিলতা আছে কিনা (?), অন্যথায় এ মেয়ে পিতৃ তুল্য খালুকে পাঠদানের অমসৃণ রুচির পরিচয় দিতে পারে না। কেননা, একদিকে মেয়েটি কোলের শিশু নয়, সদ্য এমবিবিএস পাস করা। অন্যদিকে আমি সোমালিয়ার মরুভূমির ক্ষুধার্ত শিশুর বাবাও নই। যে কারো করুণার পাত্রও তো নই ! আমার মহীয়সী (ই)স্ত্রী আঁতকা চেঁচিয়ে উঠলেন এবং বললেন যে, আমরা কারো কাছ থেকে ধূলিকণাও নেইনি (!) সুতরাং বুঝতে খুউব একটা জটিলতা হচ্ছে না যে, ইতিমধ্যেই “সব্বু গুড্ডু” টাইপের ভূয়া আইডি’র কর্তৃক আমার ব্যক্তিগত জীবন সঙ্গীনীর অবতারণা, অত:পর দ্ব্যর্থহীন ভাবে আমার কর্তৃক নিবারিত হওয়াও এক চমকপ্রদ ব্যপার বটে।

ইত্তসব ঘটনায় আমার অতি প্রিয়তমা ইস্ত্রীর নিরবতা বা চাতুর্য্য পূর্ণ আচরণ আমাকে প্রতিনিয়ত শংকিত করে তোলে আপন আত্মবিশ্বাস এর প্রতি। সাথে সাথে বূঝতে বাকী থাকে না যে, গুড্ডু পরবর্তী এটা উহার উলঙ্গ উত্তেজনা বৈ আর কিছুই নয়, তাই তাঁকে সৌজন্যতা সম্পন্ন সতর্ক করে দিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস এর পরামর্শ দিয়েছিলাম। এর পর চটকদার বাস্তবতার নিরিখে জিন্দা খুনের মুখোশ না হয় আগামী পর্বেই খুলি।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত