বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

কালুরঘাট সেতুর জন্য আবেগে কাঁদলেন সাংসদ মোছলেম উদ্দিন

আসিফ, বোয়ালখালী প্রতিনিধি: কালুরঘাট সেতুর জন্য আবেগে কাঁদলেন এই আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ। আজ (৭ অক্টোবর) সকালে কালুরঘাটে রেল কাম সড়ক সেতুর জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনে আসেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

কালুরঘাট সেতুুর পূর্বপাড়ের পথ সভায় রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের উপস্থিতিতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন এলাকার সাংসদ আলহাজ্ব মোছলেম উদ্দিন আহমদ।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি করোরা আক্রান্ত হয়েছিলাম। করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুধু আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করতাম, মহান আল্লাহ যেন আমাকে জীবদ্দশায় কালুরঘাট সেতুটি দেখিয়ে নেন। এখন আমি মৃত্যু পথযাত্রী।’ এসময় আবেগে তার কন্ঠ ধরে আসে-কান্না চলে আসে।

এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাগবে নিজ নির্বাচনী এলাকায় একটি ব্রিজের প্রতি এমন দরদ-ভালোবাসায়- এ সময় সমাবেশ জুড়ে পিন-পতন নীরবতা নেমে আসে। এসময় সমাবেশে উপস্থিত এলাকার নেতাকর্মীদের অনেককেও আবেগগ্রস্ত হয়ে উঠতে দেখা যায়।

এর আগে  সাবেক সাংসদ মঈনুদ্দীন খান বাদলেরও কত আকুতি ছিল-মৃত্যুর  আগে যেন তিনি কালুরঘাট নতুন সেতুটি দেখে যেতে পারেন। কিন্তু পারলেননা। তার আগেই তিনি পরপারে চলে গেলেন।

এলাকাবসির প্রশ্ন প্রয়াত বাদল সাহেব পারলেন না। এবার মোছলেম উদ্দিন আহমেদের চোখের পানির মূল্য দেবেন তো সরকার! সমাবেশে মোছলেম উদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, চীনের দুঃখ ছিল-সাংহায়-বোয়ালখালীর দুঃখ হচ্ছে কালুরঘাট ব্রিজ। আশ্বাসে-আশ্বাসে কতো বছর চলে গেলো-সেতু হলোনা।

২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী যখন কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু উদ্বোধনে আসলেন। তখন আখতারুজ্জমান চৌধুরী বাবুও উপস্থিত ছিলেন।

সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীকে আমরা চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি দাবি দিয়েছিলাম। ১৬টি দাবির মধ্যে প্রথম দাবি ছিল কালুরঘাট সেতু নির্মাণ। প্রধানমন্ত্রী ৫টি দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ৫টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম ছিল কালুরঘাট সেতু।

কিছুৃদিন আগে আমি রেলমন্ত্রী এবং মহাপরিচালকের সাথে দেখা করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন-রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের। দেরীতে হলেও সেতুর কাজ এগিয়েছে। আমি যদি বেঁচে থাকি বোয়ালখালীবাসীকে এই ব্রিজ দেখাবো।

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপনের জন্য এ কালুরঘাট সেতু অতীব জরুরী। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন চালু হয়ে যাবে। এজন্য ওই সময়সীমার মধ্যে এই কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ কাজও শেষ করা হবে। কালুরঘাট সেতুর ওপর ওপর হবে দুই লাইনের সড়ক। রেললাইনটি হবে ডুয়েলগেজ। এই সেতুটি হলে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার এ চার দেশের মধ্যে যে আন্তঃসড়ক সংযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উম্মোচন হবে।

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি, রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ শামসুজ্জামান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান, বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আমিন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রণব কুমার ঘোষ, রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের জি এম সরদার সাহাদাত আলী, প্রধান প্রকৌশলী মোঃ সবুক্তগীন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি রেজাউল করিম বাবুল, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ জহিরুল আলম, এনাম তালুকদার, মিজানুর রহমান, ওয়াসীম মুরাদ, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস.এম. বোরহান উদ্দিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পথসভার পরে নতুন সেতুর ডিজাইন নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ সবুক্তগীন সেতুর উপর পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করেন।

এ সময় জানানো হয়, বর্তমান সেতুটির ৮০ মিটার উত্তরে ৯টি থাম বা স্প্যান দিয়ে এ সেতু নির্মাণ করা হবে। সেতুটিতে নৌযান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চতা ও স্পেস রাখা হবে। ফলে জাহাজ চলাচলে সুবিধা হবে। সেতুটি নির্মিত হলে নিরবচ্ছিন্ন রেল পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা যাবে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরের অপারেশনাল প্রতিবন্ধকা দুর হবে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য বৃহত্তর করিডোর তৈরি হবে, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের যানজট হ্রাস পাবে।  আঞ্চলিক বিনিময় সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হবে, স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান আরো উন্নত হবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত