হালদা নদীর শাহ মাদারী হ্যাচারি এলাকা থেকে একটি মৃত মৃগেল মা মাছ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে মাছটি উদ্ধার করেন হালদা অস্থায়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক রমজান আলী। মাছটি দৈর্ঘ্যে ৪২ ইঞ্চি, প্রস্থে ১৮ ইঞ্চি এবং ওজনে ১৩ কেজি ৫০০ গ্রাম।
মা মাছটি উদ্ধারের পর হালদা গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়ার নির্দেশনায় সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন নদী পরিব্রাজক দল চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুল হক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট জে.কে. ওয়ারেছাত, আশরাফুল আনাম ও আরিফুল ইসলাম।
গবেষণা দলের সদস্যরা জানান, মাছটির শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানির গুণগত মানের অবনতি বা অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে মাছটির মৃত্যু হতে পারে। সুরতহাল শেষে মাছটি নিয়ম মেনে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
হালদা নদীকে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ প্রজাতির মা মাছ ডিম ছাড়ে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে প্রজনন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। শিল্পবর্জ্য, বালু উত্তোলন, ট্রলারের শব্দ দূষণ ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণসহ নানা কারণে মা মাছের মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে।
হালদা নদীর প্রতি বছরকার প্রাকৃতিক প্রজননচক্র টিকিয়ে রাখতে হলে এখনই কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। একে একে মা মাছ হারিয়ে গেলে হালদার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।


