বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চট্টগ্রাম ক্লাবের কক্ষে সাবেক সেনাপ্রধান হারুন উর রশীদের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি ভিআইপি কক্ষে সাবেক সেনাপ্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল এম হারুন উর রশীদকে (৭৫) মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ ও স্বজনদের ধারণা, তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে (স্ট্রোক) মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর আগেই তিনি তার দুই চোখ দান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ক্লাবের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ঢাকায় বসবাস করছিলেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আলমগীর হোসেন জানান, রোববার বিকেলে হারুন উর রশীদ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসেন এবং বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি ভিআইপি কক্ষে ওঠেন। ঘণ্টাখানেক পর তিনি ক্লাব থেকে বের হয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে ফিরে আসেন। কক্ষে ঢোকার আগে তিনি ফ্রন্ট ডেস্কে গিয়ে পরদিন সকালের নাস্তার সময় জেনে নেন।

সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত তিনি কক্ষ থেকে বের না হওয়ায় সন্দেহ হয় তার সঙ্গে থাকা আর্মি প্রটোকল টিমের। পরে ক্লাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় কক্ষের পেছনের কাচের জানালা ভেঙে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন তাকে বিছানার ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ডিসি আলমগীর বলেন, “গতকাল রাতে তিনি কোথাও দাওয়াতে গিয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছি। সকালে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল তার। কিন্তু সকাল ১০টা পার হয়ে যাওয়ার পরও বের না হওয়ায় সন্দেহ হয়। পরে জানালা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে দেখা যায় তিনি মৃত অবস্থায় আছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করেছেন। আমরা ময়নাতদন্তের পরামর্শ দিয়েছি, তবে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তার নিকটাত্মীয় এনাম আহমেদ জানান, সোমবার চট্টগ্রামের একটি আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল হারুন উর রশীদের। এ কারণেই তিনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসেছিলেন এবং চট্টগ্রাম ক্লাবের ভিআইপি কক্ষে একাই ছিলেন।

২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দশম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

অবসরোত্তর জীবনে হারুন উর রশীদ ডেসটিনি গ্রুপের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত হন। ওই প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় তিনি দণ্ডিত হন এবং কারাদণ্ড ভোগ করেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত