বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। শনিবার দুপুরে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এই সফরের মাধ্যমে প্রায় ১৩ বছর পর কোনো পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করলেন।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ঢাকা-ইসলামাবাদের মধ্যকার গত দুই দশকের শীতল সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালোচ গত এপ্রিলেই ঢাকা সফর করেছিলেন। সেই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় এবার ইসহাক দার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।

সূত্র মতে, ইসহাক দারের সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় সক্রিয় করা এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাব্য দিকগুলো আলোচনা করা। পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফর পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ২৩-২৪ আগস্ট বাংলাদেশে সরকারি সফর করবেন। এই সফরের সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সম্পূর্ণ পরিসর এবং কয়েকটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা সফরের অংশ হিসেবে ইসহাক দার বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এর মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গুলশানের বাসায় সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পর পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ইস্যুতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরের মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে, ঢাকা-ইসলামাবাদের সম্পর্ককে পুনরায় সক্রিয় করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে। কূটনীতিকরা বলছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যা ভবিষ্যতে দু’দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত করতে সহায়ক হতে পারে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত