বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

হাত-পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় হাসপাতালের বিছানাতেই সম্পন্ন হলো বিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিয়ে মানেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সাজানো মঞ্চ, ফুলে মোড়া আসর আর অতিথির কোলাহল। কিন্তু মানিকগঞ্জে দেখা গেল একদম ভিন্ন চিত্র। হাত-পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় হাসপাতালের বিছানাতেই সম্পন্ন হলো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। শারীরিক যন্ত্রণার মাঝেও থেমে থাকেনি জয়মাল্য আর সাতপাকের আচার। এ যেন দেশের অনন্য এক বিয়ের আয়োজন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে মানিকগঞ্জ শহরের আফরোজা বেগম জেনারেল হাসপাতালে। রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের সাময়িকভাবে খালি রাখা একটি কক্ষে বর ও কনেপক্ষের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের চাঁন মিয়া লেনের বাসিন্দা অরবিন্দ সাহার বড় ছেলে অভিজিৎ সাহার বিয়ের দিন আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনের আগেই ঘটে অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা। ঢাকা থেকে ফেরার পথে ধামরাইয়ে এক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করলে জানা যায়, তার এক হাত ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। এমন পরিস্থিতিতে দিনক্ষণ পাল্টানো না করে দুই পরিবারের সম্মতি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।

ব্যতিক্রমী এই বিয়ের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয় হাসপাতালের নিজস্ব ফেসবুক পেজে। লাইভে দেখা যায়, হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন বর অভিজিৎ, পাশে বসে আছেন কনে অমৃতা সরকার। সাধারণ সাজসজ্জা, হাতে গোনা কিছু আত্মীয়স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা। দেখে মনে হয়নি এটি হাসপাতালের কোনো কক্ষ, বরং ছোট্ট পরিসরে আয়োজন করা বিয়ের আসর।

বরের বাবা অরবিন্দ সাহা বলেন, “ভাবতেই পারিনি হাসপাতালে এমন আনন্দমুখর পরিবেশ হবে। যেহেতু আগেই দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল, তাই পরিবর্তন না করে নির্ধারিত দিনেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছি।”

প্রচলিত হিন্দু বিয়ের অন্যতম আচার সাতপাকে বাঁধার মুহূর্তও বাদ পড়েনি। তবে অভিজিৎ সাহা পিঁড়িতে নয়, হাসপাতালের বেডে শুয়েই উপভোগ করেছেন সাতপাকের আচার।

আহত বর অভিজিৎ সাহা বলেন, “কিছুদিন আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি। এখন আগের চেয়ে সুস্থ বোধ করছি। দুর্ঘটনার আগেই বিয়ের তারিখ ঠিক করা ছিল। তাই ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হলো। এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানাই।”

কনে অমৃতা সরকার বলেন, “এ আয়োজনটি আমার কাছে সত্যিই ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে। পারিবারিকভাবেই বিয়ের সিদ্ধান্ত ছিল। আমি সবার কাছে স্বামীর সুস্থতা আর আমাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য দোয়া চাই।”

আফরোজা বেগম জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অ্যান্ড ইউনিট হেড ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বরের পরিবার আমাদের বিষয়টি জানালে আমরা গুরুত্ব সহকারে কনসালটেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করি। রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল মনে হওয়ায় হাসপাতালের একটি অব্যবহৃত অংশে অনুষ্ঠানটি করার অনুমতি দেওয়া হয়। রোগীদের সেবায় আমরা সবসময় আন্তরিক।”

মানিকগঞ্জের এই ব্যতিক্রমী বিয়ে এখন নেট দুনিয়ায় আলোচনার বিষয়। অনেকেই একে দেশের অনন্য নজির হিসেবে উল্লেখ করছেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত