বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র: সাগরে ড্রেজিং বন্ধে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের সাগরে ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ, জেটি নির্মাণে ব্যবহৃত পাথর অপসারণ এবং কয়লাবাহী লাইটার জাহাজ ভেড়ানো বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জেলেদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ ও ২ বন্ধের নির্দেশনাও রিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ‘গন্ডামারা বরগুনা বহুমুখী সমবায় সমিতি’-এর সহকারী সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন এ রিট করেন। এতে বিবাদী করা হয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ মোট ১১ জনকে।

রিটের শুনানি হবে হাইকোর্টের বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফারুক হোসেন।

তিনি জানান, গন্ডামারা উপকূল দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জেলেদের প্রধান জীবিকার স্থান। প্রায় তিন হাজার জেলে প্রতিদিন এখান থেকে নৌকা ও সাম্পান নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যান। কিন্তু কয়লাবাহী লাইটার জাহাজগুলো জেটিঘাটে ভেড়ানোর কারণে জেলেদের নৌকা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, জাল ছিঁড়ে যাচ্ছে এবং মাছ ধরার ক্ষেত্রেও নানা বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জেলেদের জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

জেলেদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমের কারণে তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবিকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যদি নিরাপদে নৌকা ভেড়ানোর নিশ্চয়তা, ক্ষতিপূরণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করা হয়, তবে এ অঞ্চলের অর্থনীতি চরম সংকটে পড়বে।

অন্যদিকে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, জেটিঘাটটি শুধুমাত্র প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য নির্মিত হয়েছে। স্থানীয় জেলেরা জাল বসানো ও নৌকা রাখার কারণে লাইটার জাহাজগুলো কয়লা নিয়ে ঘাটে ভিড়তে পারে না। এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে ঘাট এলাকায় জাল বসানো বা নৌযান ভেড়ানোর অনুমতি নেই বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের মতে, এ সমস্যার সমাধান না হলে উপকূলীয় অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা আশা করছেন, আদালতের নির্দেশনার মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা হবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত