চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবি করেছেন সাইফুদ্দীন মুহাম্মদ এমদাদ। তবে তাঁর নাম ব্যবহার করে ঢাকায় ভুয়া মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি মামলা বাণিজ্যের অভিযোগও করেন।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইফুদ্দীন এ অভিযোগ করেন। তিনি জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড়ে তিনি চোখ, মুখ ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৭ জুন চট্টগ্রামের খুলশী থানায় মামলা করেন তিনি।
কিন্তু গত ২০ মার্চ ঢাকার আদালতে করা এক মামলায় বাদী হাশেম রাজু দাবি করেন, সাইফুদ্দীন নাকি ৪ আগস্ট সকালে রাজধানীর পরীবাগ মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে সাইফুদ্দীন বলেন, “ঢাকায় করা এই মামলার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এটি পুরোপুরি আষাঢ়ে গল্প, মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা। হাশেম এ মামলা বাণিজ্যের জন্য করেছেন।”
সাইফুদ্দীন সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার (ঢাকা আলিয়া) শিক্ষার্থী এবং এ বছর এইচএসসি সমমান (আমিল) পরীক্ষায় অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হাশেম রাজু নিজেকে মানবাধিকারকর্মী পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চিকিৎসার সহায়তার পাশাপাশি বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিছু সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেন। পরে সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে আদালতে বাদী সেজে মামলা করেন হাশেম। এ বিষয়ে হাশেমের কাছে একটি ‘লিগ্যাল নোটিশ’ পাঠানো হয়েছে এবং শাহবাগ থানায় একটি জিডিও করা হয়েছে।
জানতে চাইলে হাশেম নিজেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা বলে পরিচয় দেন। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “সাইফুদ্দীন ঢাকাতেই আহত হয়েছেন। আদালতে মামলার জন্য স্বাক্ষরও তিনিই দিয়েছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে সাইফুদ্দীন আরও দাবি করেন, খুলশী থানায় তাঁর মামলায় আন্দোলনে অর্থ জোগানদাতা হিসেবে একটি শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধারদের আসামি করা হয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি গণমাধ্যম তাঁকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে।
এ সময় তিনি খুলশী থানার সাবেক ওসি আফতাব হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। সাইফুদ্দীনের দাবি, গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় ওসি তাঁকে থানায় ডেকে নিয়ে এক ব্যক্তিকে পরিচয় করিয়ে দেন, যিনি নিজেকে পিএইচপি, জিএইচপি ও এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি পরিচয় দেন। ওই ব্যক্তি মামলাটি কত টাকায় তুলতে রাজি তা জানতে চান। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরদিন তাঁকে না জানিয়ে আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি জেনে তিনি পরে আদালতে নারাজি দাখিল করেন।
অভিযোগ বিষয়ে সাবেক ওসি আফতাব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


