রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
Single Top Banner

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ভয়াবহ সংঘর্ষে ৫০ জন নিহত:

আরসার দখলে গেলো আরাকান টিলা ক্যাম্প

আনোয়ার হোছাইন, (নাইক্ষ্যংছড়ি) প্রতিনিধি : 

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় টানা তিন দিনের ভয়াবহ সংঘর্ষে মিয়ানমারের ভ্যান্ডুলা এলাকার আরাকান টিলা ক্যাম্পটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। সংঘর্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)-এর অন্তত ৪০-৫০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ির দৌছড়ি সীমান্তবর্তী ৫৬ ও ৫৭ নম্বর পিলারের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অবস্থিত ভ্যান্ডুলা ক্যাম্পে আরাকান আর্মির প্রায় ৭০-৮০ জন সদস্য অবস্থান করছিলেন। তবে এক সপ্তাহ ধরে টানটান উত্তেজনার পর শনিবার ভোর থেকে আরসা ও আরাকান আর্মির মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। টানা তিন দিন ধরে চলা সংঘর্ষে সোমবার রাতে ক্যাম্পটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আরসা।

সংঘর্ষ চলাকালে ভারী অস্ত্রের গুলির শব্দ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের ভেতর দৌছড়ি ও আশপাশের গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছায়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সীমান্তবর্তী এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম (৫০) এ প্রতিবেদককে বলেন, “রাতের বেলায় প্রায়ই প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। ভয় পেয়ে আমরা বাইরে বের হই না।”

স্থানীয় আরও কয়েকজন জানান, আরাকান আর্মির বহু সদস্য হতাহত হয়ে পিছু হটলেও আরসার পক্ষের হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাগুলি ও সংঘর্ষের কারণে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস. কে. এম. কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, “আমরা সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছি। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সতর্ক রয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, মিয়ানমারের ভেতরে এ ধরনের সংঘর্ষের কারণে সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন অস্থিরতা বিরাজ করছে। তারা এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ চান।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত