বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

নিউইয়র্কে প্রভাবশালী বিশ্বনেতাদের সমর্থন পেলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সমর্থন জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা নিউইয়র্কে একত্র হয়েছেন। শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম বার্ষিক অধিবেশনের ফাঁকে তার হোটেল স্যুটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা বাংলাদেশের সংকটময় সময়ে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিজামি গঞ্জাভি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের (এনজিআইসি) সহসভাপতি ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবারগা। দলে আরও ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরুত পাহোর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরিস তাদিচ, লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লেভনেলিভ ও পেতার স্তোইয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো যোসিপোভিচ, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্লাদেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিম।

এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জর্জিয়ার সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চারজন সাবেক সভাপতি, একাধিক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহসভাপতি ও এনজিআইসির সহসভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, মানবাধিকার সংগঠন রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ও জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।

নেতারা অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্ব, দারিদ্র্য দূরীকরণে অবদান এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য তার আজীবন প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, “আমরা আপনাকে ও বাংলাদেশের জনগণকে সমর্থন জানাতে এসেছি। আমরা আপনার পাশে আছি।” তাদের মতে, দীর্ঘ ১৬ বছরের দুর্নীতি, শোষণ ও অপশাসনের পর বাংলাদেশ এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন নেতা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক সংস্কারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। কেরি কেনেডি বলেন, “মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আপনাদের অর্জন অসাধারণ।” জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির নির্বাহী পরিচালক মেলান ভারভিয়ার জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান শিগগিরই বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানাবে। ইসমাইল সেরাগেলদিন আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আপনাদের প্রয়োজন হলে আমরা আছি।”

অধ্যাপক ইউনূস অপ্রত্যাশিত এই সমর্থন পেয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আমাদের সমর্থনে আপনাদের একসঙ্গে দাঁড়ানো সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি মুগ্ধ।” তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে তুলনা করেন এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের সঙ্গে—যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৯।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, সীমিত সম্পদের কারণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। “মানুষ তাৎক্ষণিক পরিবর্তন দেখতে চায়। আমাদের অবশ্যই তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে—তারা একটি নতুন বাংলাদেশ খুঁজছে।”

এসময় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সমর্থন করার আহ্বান জানান এবং বলেন, “আপনাদের পরামর্শ, সহযোগিতা ও নৈতিক শক্তি আমাদের জন্য অমূল্য।” বৈঠকে এসডিজি–বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত