চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিহত বিএনপি কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিমের (৫২) শরীরে অন্তত ১০টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে এসব আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সব আঘাত বুলেটের কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আবদুল হাকিমকে হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়জন মুখোশধারী যুবক। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুইজন করে ছিল, এবং তাদের সবাই মুখোশ পরে ছিল।
এ ঘটনায় রাউজান উপজেলায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক ও চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তারা হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ তালুকদার বলেন,
“আবদুল হাকিম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যদিও তার কোনো দলীয় পদ ছিল না। রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি কাজ করতেন। তার হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে ১৩-১৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার অধিকাংশেরই এখনো বিচার হয়নি।”
রাউজান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহম্মদ বলেন,
“আবদুল হাকিম ছিলেন একজন কর্মী ও ব্যবসায়ী। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হোক।”
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, মুখোশধারী কয়েকজন যুবক মদুনাঘাট এলাকায় হাকিমের প্রাইভেটকার থামিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এবং পরে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। একাধিক গুলি গাড়ির গ্লাস ভেদ করে হাকিমের শরীরে লাগে। তার সঙ্গে থাকা আরেকজনও গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল হাকিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, “নিহতের লাশ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যায় কারা জড়িত, তা শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের মদুনাঘাট পানি শোধনাগার প্রকল্পের মূল ফটকের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। আবদুল হাকিম রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে প্রাইভেটকারে চট্টগ্রাম শহরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মোটরসাইকেল আরোহী মুখোশধারীরা তার গাড়ি থামিয়ে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আবদুল হাকিমের হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।


