বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

নগরীতে কোরবানির হাটে আসছে না ক্রেতা: টেনশনে বিক্রেতারা

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে কোরবানির হাটগুলোতে গরু আসা শুরু হলেও করোনা মহামারীর মধ্যে ক্রেতা সমাগম খুবই কম। গরু নিয়ে আসা বেপারিরা শঙ্কিত হলেও হাটের ইজারাদাররা বলছেন, দুই দিনের মধ্যে বেশিরভাগ গরু চলে এলে বেচাকেনাও বাড়বে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার থেকে স্থায়ী হাটগুলোতে কয়েকদিন আগে থেকেই গরু আসতে শুরু করছে। স্থায়ী হাটগুলোতে গিয়ে নগন্য সংখ্যক ক্রেতা দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছিল ঢিলেঢালা ভাবে।

অস্থায়ী বোয়ালখালী গরু হাট, কর্ণফুলী হাট, কমল মহাজন হাট, সল্টগোলা ও পতেঙ্গা বাটারফ্লাই পার্ক সংলগ্ন গরুর বাজার বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে।

রোববার থেকে নগরীর স্থায়ী দুই হাট সাগরিকা ও বিবিরহাটে কুষ্টিয়া, মাগুরা, চাপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, নাটোর, রাজশাহী ও ‍কুমিল্লাসহ বিভিন্ন হাটে গরু আসতে শুরু করে। বুধবার বিকালে নগরীর সবচেয়ে বড় স্থায়ী হাট সাগরিকা বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রবেশ পথে কয়েকজন কিশোর-তরুণ দাঁড়িয়ে আছে। তারা ক্রেতাদের মাস্ক পড়ে বাজারে ঢুকতে বলছে।

বাজারের ভিতর লোকজনের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। কারও মাস্ক পকেটে আর বাকিদের গলায় ঝুলানো।

সাগরিকা গরুর বাজারে রংপুর থেকে ১২ টা গরু নিয়ে আসা আনোয়ার বলেন, গত ২০ বছর ধরে কুরবানিতে এই বাজারে গরু নিয়ে আসি। এবারের মতো অবস্থা কোনো সময় দেখি নাই। গত তিন দিনে আটটা গরু বেচা হইছে। আরও আটটা আছে। কিন্তু বাজারে গরু কেনার লোক নাই।”

আবুল কালাম বলেন, “করোনার কারণে গত তিন-চার মাস ধরে এমনিতেই গরুর বেচা নাই। ভাবছিলাম কোরবানিতে বেচা হলে ক্ষতি কমবে। “কিন্তু গরু কিনতে লোকজন এখনো খুব একটা বাজারে আসেনি। এতগুলো গরুর ডেইলি খাবার খরচ অনেক টাকা।”

বোয়ালখালিতে ফুলতলে বাজারে স্থানীয় এক গরুর ইজারাদার আজিম বলেন, “শুরুতে করোনার কারণে অনেক বেপারি আসতে রাজি ছিল না। গত পরশু থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার গরু আসতে শুরু করেছে। বেপারিদের সাথে কথা হয়েছে, শনিবারের মধ্যে বেশিরভাগ গরু চলে আসবে। ৩০ শতাংশ গরু এসেছে। বাকি গরু দুই দিনের মধ্যে চলে আসবে আশা করি।” বেচাকেনা কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “শহরের লোকজনের গরু রাখার জায়গা কম। যাদের জায়গা আছে ও ভিড় এড়াতে চান তারা এখন গরু কিনছেন। বাকিরা কিনবেন শেষ দিকে।”

জেলা প্রাণি সম্পদ অফিসের হিসেবে, এবার কোরবানিতে চট্টগ্রাম জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে সাত লাখ ৩১ হাজার। তার মধ্যে জেলার আট হাজারের মতো খামার থেকে স্থানীয়ভাবে জোগান দেওয়া সম্ভব হবে ছয় লাখ ৮৯ হাজার ২২টি পশু।

এসব পশুর মধ্যে গরু চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭২টি, মহিষ ৫৭ হাজার ১৩১টি, ছাগল ও ভেড়া এক লাখ ৬৭ হাজার ২১০টি। অবশিষ্ট ৪১ হাজারের মত গরু দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসবে।

নগরীর স্থায়ী-অস্থায়ী ছয় হাটের পাশাপাশি ১৪ উপজেলার আরও প্রায় শতাধিক হাটে এসব পশু বিকিকিনি হবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত