শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
Single Top Banner

নদীর পাড়ে উৎসব

হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে কার্প–জাতীয় রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশ প্রজাতির মা মাছেরা নমুনা ডিম ছেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ভাটার সময় এবং দুপুরে জোয়ারের সময় হালদা নদীর হাটহাজারীর গড়দোয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট, রাউজানের পশ্চিম গুজরা আজিমের ঘাট ও নাপিতের ঘাট এলাকায় নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ। ডিম সংগ্রহকারীদের কেউ কেউ ১০০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম করে ডিম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আবার দুপুরে এক থেকে দেড় কেজি ডিম পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন জেলে।

এর আগে, বুধবার রাত থেকেই ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে অবস্থান নেন।

হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, আজ সকালের পর থেকে নদীর বিভিন্ন এলাকায় নমুনা ডিম মিলছে। একশ গ্রাম থেকে আড়াইশ গ্রাম পর্যন্ত ডিম পাচ্ছেন কোনো কোনো সংগ্রহকারী।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার নমুনা ডিম পাওয়ার পর পুরোদমে ডিম ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীরা।

হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘হালদা নদীতে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। পুরোদমে ডিম ছাড়ার আগে নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ। এর কারণ ডিমভর্তি মা মাছেরা বজ্রপাতের কারণে বা জোয়ার–ভাটার পানির চাপে কিছু কিছু ডিম ছেড়ে দেয়। এগুলোকে নমুনা ডিম বলি আমরা। নমুনা ডিম পাওয়া গেলে বোঝা যায় পুরোদমে ডিম ছাড়ার সময় এসেছে।’

হালদা নদীতে বছরের এরকম সময়ে (এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত) বজ্রসহ বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢল নামলে অমাবস্যা বা পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে জোয়ার ও ভাটার সময়ে নিষিক্ত ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মাছ।

হালদার দুই পাড়ে মা মাছের নিষিক্ত ডিম ধরার অপেক্ষায় থাকেন ৭০০ থেকে ৮০০ জন ডিম সংগ্রহকারী।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত