রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
Single Top Banner

‘কথা আছে’ বলে ডেকে নেওয়ার পর ইউএসটিসিতে মিলল বিকৃত মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং (ইউএসটিসি) ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণীর বিকৃত মরদেহ ঘিরে নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জীবিকার তাগিদে পোশাক কারখানায় কাজ করা সেই তরুণী রীতা আক্তার (২০) এখন শুধুই একটি নিথর নাম। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের উত্ত্যক্তের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) রাত ১০টার দিকে খুলশী থানা পুলিশ ইউএসটিসি ক্যাম্পাস এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মরদেহের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করতেই হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। মুখমণ্ডল বিকৃত ছিল, শরীর থেকে মাথার খুলি আলাদা হয়ে গিয়েছিল। পরে গতকাল রোববার স্বজনরা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহত রীতা আক্তারের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায়। তবে জীবিকার প্রয়োজনে পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানাধীন সিডিএ নোয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। পরিবারের অভাব ঘোচাতে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন তিনি। স্বপ্ন ছিল পরিবারকে একটু ভালোভাবে বাঁচানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল নৃশংস হত্যাকাণ্ডে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে রোববার দুপুরে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারি। কান্নায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন রীতার মা। স্বজনরা বলছিলেন, “আমাদের মেয়েটার কী অপরাধ ছিল?”

নিহতের স্বজন নুরুল ইসলাম জানান, শনিবার সকালেও অন্য দিনের মতো কাজে যান রীতা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারখানা ছুটি হলে আরও দুই বান্ধবীর সঙ্গে বের হন তিনি। এ সময় আব্দুর রহমান নামে এক যুবক ‘কথা আছে’ বলে তাকে ডেকে নেয়। পরে জোর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। রীতার সঙ্গে থাকা দুই বান্ধবী দূর থেকে পুরো ঘটনাটি দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

নুরুল ইসলাম বলেন, “ওই ছেলে দীর্ঘদিন ধরে রীতাকে উত্ত্যক্ত করতো। প্রেমের প্রস্তাবও দিয়েছিল। কিন্তু রীতা রাজি হয়নি। আমরা মনে করছি, এতে ক্ষুব্ধ হয়েই তাকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক মাস ধরেই আব্দুর রহমান নামের ওই যুবক রীতাকে বিভিন্নভাবে অনুসরণ করছিল। বিষয়টি নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্নও ছিল। কিন্তু তারা কখনো কল্পনাও করেননি যে এর পরিণতি এত ভয়াবহ হবে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, নারীদের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে। প্রকাশ্যে উত্ত্যক্ত, অনুসরণ ও হুমকির ঘটনা বাড়লেও অনেক সময় সেগুলো গুরুত্ব পায় না। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “উদ্ধার হওয়া মরদেহটির মুখমণ্ডল বিকৃত ছিল এবং মাথার খুলি আলাদা হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে যেসব তথ্য ও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য অভিযুক্তদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত