বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

বিএনপি মাঠে থাকুক, তা আমরাও চাই: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের নামে কোনো অপশক্তি দেশের বিদ্যমান শান্তি ও স্বস্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।’

ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ রোববার সকালে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

আগামী দুই মাসের মধ্যে বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের মাঠে নামার প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মাঠে থাকুক, তা আমরাও চাই। গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই জনগণ চায়। তবে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের সন্ত্রাস সৃষ্টি, জনভোগান্তি ও জানমালের ক্ষতি সরকার মেনে নেবে না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, ‘বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-হামলার কল্পিত অভিযোগের ভাঙা রেকর্ড বাজানো এখনো অব্যাহত রেখেছে। আসন্ন উপনির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কায় তারা এখন থেকেই হামলার মিথ্যা অভিযোগ করছে।’

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘ভোটারদের আস্থা অর্জনে বিএনপির কোনো পুঁজি নেই, তাই তারা মিথ্যাচারের ভেলায় চড়ে উত্তাল সাগর পাড়ি দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। প্রার্থীরা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে চাইলেও বিএনপির হাইকমান্ডের অপরাজনৈতিক কৌশলের কারণে প্রার্থীরা ভোটে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় একান্ত অনিচ্ছায়। নির্বাচন করা বিএনপির আসল লক্ষ্য নয়, তাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।’

অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকার সোচ্চার উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘অনিয়ম উদঘাটন করে সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, কারো চাপে পড়ে নয়। যাদের হাত দিয়ে এ দেশে দুর্নীতি বটবৃক্ষে রূপ নিয়েছিল, তারা দুর্নীতির আন্দোলন করবে—এ কথা শুনলে জনগণের হাসি পায়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবীদের মতে, তারা এখন কোমরভাঙা রাজনৈতিক দল। নির্বাচন ও কমিটি গঠনের সময় এলে বিএনপি নেতারা বাণিজ্য করছে বলে তাদের কর্মীদের প্রকাশ্যে অভিযোগ আছে, আর তারা নাকি অনিয়ম দূর করার আন্দোলন করবে, জনগণ তা বিশ্বাস করে না।’

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘যেসব কমিটি জমা পড়েছে, সেসব কমিটি যাচাই-বাছাই করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিয়ে কমিটি করতে হবে।’

সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দুর্যোগ-দুর্বিপাকে একমাত্র আওয়ামী লীগই জণগণের পাশে থাকে। একদিকে করোনা মহামারি আর অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফলতার সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোলমডেল। সরকার প্রমাণ করেছে, দুর্যোগ প্রতিরোধ করা না গেলেও শেখ হাসিনার দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা যেতে পারে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ। পরে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে করোনা প্রতিরোধসামগ্রী বিতরণ করেন তাঁরা।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত