নিজস্ব প্রতিবেদক :
টানা ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজারের বাঘঘোনা মোড়ে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে পাশের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এলাকায় সরাসরি গিয়ে জনগণকে সতর্ক করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসরাফিল জাহান। সঙ্গে ছিলেন আগ্রাবাদ ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উদ্ধারকর্মীরা।
জানা গেছে, বাঘঘোনা এলাকার অন্তত ২০টি পরিবারের সদস্যরা সরাসরি পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অনেকে ১৬ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেউ স্বেচ্ছায় আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে না চাইলে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া হবে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসরাফিল জাহান বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনায় প্রথমে সবাইকে বুঝিয়ে সরানোর চেষ্টা চলছে। তবে পাহাড় ধসে প্রাণহানির শঙ্কা থাকায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সময় থাকতে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হবে।’
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামের লালখান বাজার, টিলা, মতিঝর্ণা, বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত নগরীতে পাহাড় ধসে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।


