নিজস্ব প্রতিবেদক :
একদল যাবে, আরেকদল এসে দখল নেবে- এই অপরাজনীতির কবর রচনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট চত্বরে আয়োজিত পথসভায় উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, জনগণ আর দখলবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি চায় না। এখন সময় এসেছে, এই অপশক্তির বিরুদ্ধে জনগণের গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার।
নুর বলেন, রাজধানীর মিটফোর্ডে যেই ব্যক্তিটা খুন হয়েছে তাকে কোন ছাত্র-জনতা খুন করে নাই। তাকে চাঁদার জন্য খুন করেছে যুবদলের এক কর্মী। সে ভেবেছে দুয়েকটা খুন করে একটা ভয় সৃষ্টি করতে পারলে জেলে গেলেও যেন তার নামে চাঁদাবাজি চলে। এই ধরনের সন্ত্রাস নির্ভর রাজনীতি নব্বই পরবর্তী সময়ে এ দেশের জনগণ দেখেছিল।
নুর আরো বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, যেভাবে বন্দুকের নলের সামনে দাড়িয়ে শেখ হাসিনার মত প্রতাপশালী দৈত্যকে ক্ষমতা থেকে হটিয়েছি, সেভাবে আগামীর বাংলাদেশেও যেন নতুন কোন দৈত্য দানব তৈরি হতে না পারে আমাদের জাগ্রত থাকতে হবে। চাঁদাবাজ দখলবাজ দুর্নীতি দুঃশাসন ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশষে আমাদের রুখে দাড়াতে হবে। অন্যথায় জুলাইয়ের অভ্যত্থানের স্বপ্ন অধরায় থেকে যাবে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আক্তার জামান সম্রাটের সঞ্চালনায় ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গাজী সুফিয়ানের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন, গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ, উচ্চতর পরিষদ সদস্য আনিসুল রহমান মুন্না, কামনুর নাহার ডলি, যুব অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মনজুর মুরশেদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবুদল রহমান প্রমুখ।
শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘জুলাই বিপ্লব গণসমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন নুরুল হক নুর।
নুর বলেন, ‘মিটফোর্ডের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পাঁচ আগস্টের পরে গত ১১ মাসে সারাদেশে এরকম অন্তঃত ১১ হাজার ঘটনা ঘটেছে। মিটফোর্ডের ঘটনা নির্মম ছিল, মর্মান্তিক ছিল, পত্রপত্রিকা-মিডিয়ায় এসেছে, এজন্য সারাদেশের মানুষের নজরে এসেছে, মানুষ প্রতিবাদ করছে, যার কারণে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু জেলা-উপজেলায়, গ্রামে-গঞ্জে এরকম আরও যেসব ঘটনা ঘটছে, সেগুলো এভাবে মিডিয়ায় আসছে না।’


