বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

চট্টগ্রামে শহীদুল হত্যা মামলায় ২৩১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করল আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদুল ইসলাম শহীদ হত্যা মামলায় ২৩১ জন আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এটি প্রথম অভিযোগপত্র।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট চতুর্থ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফা শুনানি শেষে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছিলেন। আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে সরাসরি চার্জশিট গ্রহণের আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৪ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফয়সাল তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। অভিযোগপত্রে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভী, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আবদুচ ছালাম, দিদারুল আলম দিদার, এস এম আল মামুন, নোমান আল মাহমুদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর এসরারুল হক, নুর মোস্তফা টিনু, সলিমুল্লাহ বাচ্চু, জিয়াউল হক সুমন ও নুরুল আজিম রনিসহ মোট ২৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পিস্তল, শর্টগানসহ ভারী অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়। এতে গুরুতর আহত হন ছাত্র আন্দোলনের কর্মী শহীদুল ইসলাম শহীদ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিহত শহীদের ভাই শফিকুল ইসলাম চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রথমে ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও তদন্ত শেষে ২৩১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এ মামলায় ইতোমধ্যে ৮৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে ১২৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জন সাধারণ নাগরিক, ৯৯ জন পুলিশ সদস্য এবং একজন চিকিৎসক রয়েছেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত