বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যত ধরনের চক্রান্ত আছে সবই শেখ হাসিনা। বেগম জিয়া হেঁটে হেঁটে কারাগারে গেলেন, ফিরে আসলেন হুইল চেয়ারে। দিনের পর দিন তাকে হাসপাতালে কাটাতে হচ্ছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মীরেরখীল উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মীরবাড়িতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারকে মানবিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠন থেকে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা এদেশকে তার পৈতৃক সম্পত্তি মনে করতেন। জনগণের টাকাকে নিজের টাকা মনে করতেন। তাই দেশের সবগুলো ব্যাংক ফুটো করে দিয়ে সে এবং তার লোকেরা টাকা পাচার করেছেন। তিনি মনে করতেন বেগম খালেদা জিয়া বোধহয় তার পথের কাঁটা। তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যত ধরনের চক্রান্ত করা দরকার তিনি সেটি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ন্যায়নীতি, আইনকানুন কোনো কিছুর তোয়াক্কা করেননি। অনেকে বলেন, জেলখানায় তার খাবারে বিষ পর্যন্ত মেশানো হয়েছিল। কত অত্যাচার, নির্যাতন করেছেন। এরপরও বেগম জিয়াকে টলানো যায়নি। তিনি এদেশ ছেড়ে, এদেশের জনগণকে ছেড়ে কোথাও যাননি।’
শেখ হাসিনার প্লট দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, যদি নিজের নামে ঢাকায় জমি থাকে তাহলে সে রাজউকের প্লট পায় না। কিন্তু শেখ হাসিনা নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করেনি। তার ‘সুধা সদন’ থাকার পরও সে তারা ছেলের নামে, মেয়ের নামে ও তার আত্মীয় স্বজনের নামে ৬০ কাঠা জায়গা নিয়েছেন পূর্বাচলে।
এসময় চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলালের প্রশংসা করে বিএনপির সিনিয়র এ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনার আমল মানে পথে পথে মৃত্যুর হানা, ক্রসফায়ারের ভয়, যেকোনো সময় যেকোনো বিপদের মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা ছিল। যেকোনো বিপদকে তুচ্ছ করে দলীয় কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যারিস্টার হেলাল। অনেক মামলা বরণ করেছেন শুধু গণতন্ত্র ফেরানো জন্য। আমি যখনই কোনো টেলিফোন করেছি, তখনই সে বলেছে- চাচা আমি সাধ্য মত চেষ্টা করবো। এরপরই দেখি ওরই (মীর হেলাল) মিছিল। সেটা হাটহাজারী হোক আর চট্টগ্রামে হোক সব জায়গায় তার ভূমিকা ছিল।
অনুষ্ঠানে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র আহ্বায়ক ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন অসুস্থ হাফেজ আবু বকর সায়মের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয় এবং তার প্রতি সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পাশে থাকার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র উপদেষ্টা আবুল কাশেম, সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র সদস্য মাসুদ রানা লিটন, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, রাশেদুজ্জামান পিয়াস, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নূর মোহাম্মদ, পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান, সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান, বিএনপির নেতা অহিদুল আলম, এম এ শুক্কুর প্রমুখ।


