মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামীকাল রোববার (২ জানুয়ারি) দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার ১০নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলামের আদালতে এ অভিযোগ গঠন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এদিন অভিযোগ গঠন শুনানিতে হাজিরা দিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরীমণি আদালতে উপস্থিত হবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী।
তিনি বলেন, পরীমণির মামলায় রোববার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এদিন পরীমণি হাজিরা দিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে উপস্থিত হবেন।
এর আগে গেলো ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার ১০নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলামের আদালতে পরীমণিসহ মামলার অন্য দুই আসামি আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। ওইদিন পরীমণি অসুস্থ হওয়ায় আদালতে উপস্থিত হননি। এজন্য তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।
তারও আগে গেলো ১৫ নভেম্বর পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। একইসঙ্গে মামলাটি বিশেষ জজ আদালত ১০-এ বদলি করা হয়। পরবর্তী চার্জ গঠনের জন্য ওইদিন ১৪ ডিসেম্বর ধার্য করেন আদালত।
গত ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল আদালতে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তার আগে গত ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে প্রতিবেদন দাখিল হওয়া পর্যন্ত পরীমণির জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্ত হন এ চিত্রনায়িকা।
প্রসঙ্গত, গেলো বছরের ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র্যাব। পরদিন (৫ আগস্ট) বিকেলে পরীমণি, চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে বনানী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর র্যাব বাদী হয়ে বনানী থানায় পরীমণি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। সেই মামলায় পরীমণিকে আদালতে হাজির করা হলে প্রথমে চারদিনের রিমান্ড ও পরে আরও দুই দফায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমণি ২০১৬ সাল থেকে মাদক সেবন করতেন। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। সেখানে নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন।


