চট্টগ্রাম নগরের রৌফাবাদ বিহারী কলোনী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত শিশু রেশমি আকতার (১১) বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ব্রেন কার্যত কাজ করছে না। কৃত্রিম লাইফ সাপোর্টের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রেশমির শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, চিকিৎসায় তেমন সাড়া মিলছে না এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বাকী বিল্লাহ বলেন, “মেয়েটির অবস্থা খুবই খারাপ। তার ব্রেন কাজ করছে না। বিষয়টি আমরা তার পরিবারকে জানিয়েছি।”
রেশমির বাবা রিয়াজ আহমেদ প্রকাশ গুড্ডু বলেন, “হাসপাতালের ডাক্তাররা আমাদের মেয়ের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, রেশমির অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। এখন আল্লাহর রহমত ছাড়া আর কিছুই করার নেই।”
অন্যদিকে, রেশমির ভাই ফয়সাল আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ডাক্তার আমাদের শুধু দোয়া করতে বলেছেন। আল্লাহ যদি আমার বোনকে ফিরিয়ে দেন, তাহলেই আমরা তাকে ফিরে পাবো।”
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের রৌফাবাদ এলাকার বিহারী কলোনীতে চাঞ্চল্যকর গোলাগুলির ঘটনায় রাউজানের যুবক হাসান রাজু নিহত হন। তিনি বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় শিশু রেশমি আকতার নিকটস্থ দোকান থেকে পান কিনতে বের হয়েছিল। ঠিক তখনই দুর্বৃত্তদের ছোড়া একটি গুলি তার চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরে ঢুকে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ নিয়ে যান।
তবে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে শয্যা খালি না থাকায় প্রথমে তাকে নগরের প্রবর্তক মোড় এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আইসিইউ শয্যা খালি হলে পুনরায় তাকে চমেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, গুলিটি চোখ দিয়ে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এতে তার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে তার শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা হয়েছে।
এদিকে, শিশু রেশমির মর্মান্তিক অবস্থায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতালের আইসিইউর সামনে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এলাকাবাসীও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীতে অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে জনবহুল আবাসিক এলাকায় এ ধরনের গুলির ঘটনায় নিরীহ মানুষ হতাহত হওয়ায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


