চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান আগ্রাবাদ বক্স কালভার্ট পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের ভেতরে নাসির খাল ও ছড়ার জলপ্রবাহ পরিস্থিতি এবং চৌমুহনী এলাকায় কালভার্ট পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
মেয়র জানান, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বাস্তবায়নে চসিকের তত্ত্বাবধানে বক্স কালভার্ট পরিষ্কারের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, টাইগারপাস, দেওয়ানহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো নালা ও খাল ভরাট করে এবং উন্মুক্তভাবে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। মেয়র এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে পরিবেশবিরোধী কার্যকলাপ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জলাবদ্ধতা রোধে শুধু খাল পরিষ্কার করলেই হবে না, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। অপরিকল্পিত নির্মাণ ও ময়লা ফেলে ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হচ্ছে। যতক্ষণ না আমরা এই শহরকে ভালোবাসবো, ততক্ষণ এই নগরকে বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও জানান, জুলাইয়ের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানি একত্রিত হয়ে এবার অল্প বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ‘মে মাসে ১৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। এবার ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই জোয়ারের কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে,’ বলেন তিনি।
এ অবস্থায় দ্রুত একটি সমন্বিত সভা আহ্বান করা হয়েছে বলেও জানান মেয়র। এতে চসিক ছাড়াও অন্যান্য সেবা সংস্থাগুলোকে যুক্ত করা হয়েছে। চলমান পরিস্থিতির মূল্যায়নে তিনি চানগাঁও, বহদ্দারহাট, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান।
খাল সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৩৬টি খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে ২১টির কাজ শেষ হয়েছে, বাকি ১৫টি এখনো অসম্পূর্ণ। এছাড়া চসিক কর্তৃক নির্ধারিত বারইপাড়া খাল খননের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
মেয়র দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছে। সুইসগেট নির্মাণ সম্পন্ন হলে আরো বড় পরিসরে জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হবে।
চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খুব সামান্য জমা পানিতেও এডিস মশার লার্ভা তৈরি হয়। প্লাস্টিক, ডাবের খোসা, বোতল যেখানে-সেখানে ফেললে জলাবদ্ধতা ও রোগ—দুটোই বাড়ে।’ এ সমস্যা মোকাবেলায় ‘ডোর টু ডোর’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদার করার ঘোষণা দেন তিনি।
চলমান দুর্যোগের মূল কারণ হিসেবে মেয়র ‘নগর সরকারের অভাব”কে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের অভাবে আজকের সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে। পৃথিবীর অনেক উন্নত শহরে নগর সরকার রয়েছে, মেয়র সেখানে সর্বোচ্চ কর্তৃত্বসম্পন্ন। আমাদের এখানেও নগর সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- চসিক সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফরহাদুল আলম, প্রকল্প পরিচালক কমান্ডার মো. এনামুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহান, সহকারী প্রকৌশলী গাজী মো. কামরুল হাসান প্রমুখ।


