বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে নির্মাণাধীন সড়ক বদলে দিচ্ছে চট্টগ্রাম নগরের চিত্র 

নিজস্ব প্রতিবেদক

কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে নির্মাণাধীন নতুন সড়ক মহড়া এলাকার পিছিয়ে পড়া চিত্র বদলে দিচ্ছে। নগরীর কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু এলাকা পর্যন্ত নির্মিতব্য ৯ কিলোমিটার সিটি আউটার রিং রোড চালু হলে কমবে যানজট, বাড়বে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও শিল্পায়ন। পাশাপাশি এ সড়ক নগর রক্ষার বাঁধ হিসেবেও কাজ করবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বাস্তবায়নাধীন দীর্ঘ নয় কিলোমিটারের প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি অংশ ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে শেষ করে পুরোপুরি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সিডিএ জানায়, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, বক্সিরহাট, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকা বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাবে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে এই সড়ক। এর ফলে যান চলাচলে গতি আসবে, পিছিয়ে থাকা এলাকার জীবনমান উন্নত হবে এবং পর্যটন ও আবাসন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সড়কটি চালু হলে বাকলিয়া-চান্দগাঁও-মোহরা এলাকার চিত্র বদলে যাবে। কালুরঘাট থেকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত যাতায়াত সহজ হবে, উত্তর-দক্ষিণের যোগাযোগও দ্রুত হবে। কর্ণফুলী তীরবর্তী অবকাঠামোহীন এলাকাগুলো উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে এবং পর্যটকদের জন্য নতুন স্পট হিসেবে জায়গাটি পরিচিত হবে। ইতোমধ্যেই সেখানে মানুষের ভিড় বাড়ছে, তবে নিরাপত্তার কারণে সন্ধ্যার আগে সবাইকে ফিরতে হচ্ছে।

প্রকল্পের নাম ‘কালুরঘাট-চাক্তাই সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প’। নয় কিলোমিটারের মধ্যে এখনো এক কিলোমিটার কাজ বাকি। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় এ অংশের কাজ আটকে ছিল দীর্ঘদিন। একাধিকবার মেয়াদ বৃদ্ধি করেও ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশ জানিয়েছেন, আগামী বছরের জুনে কাজ শেষ হবে এবং তখন মাত্র ১০ মিনিটেই কালুরঘাট থেকে চাক্তাই যাতায়াত করা যাবে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা, যা পরে বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। নির্মাণকাজ করছে স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। জমি অধিগ্রহণ, মামলা-মোকদ্দমা, অর্থ সংকট ও কোভিড পরিস্থিতির কারণে কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত কর্ণফুলীর শহরাংশে চার লেনের সড়ক ও বাঁধ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যে চাক্তাই, রাজাখালী, বলিরহাট, সাব খাল-২, ইস্পাহানি খাল, কল্পলোক এলাকা হয়ে কালুরঘাট পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রায় শেষ।

প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশ জানান, ৮ কিলোমিটার বাঁধ ও সড়কের অধিকাংশ কার্পেটিং শেষ হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪ ফুট উঁচু ও ৮০ ফুট প্রশস্ত চার লেনের সড়ক কাম বাঁধ নির্মিত হচ্ছে। খালের মুখে ১২টি জোয়ার-ভাটা প্রতিরোধক রেগুলেটর ও পাম্পহাউস স্থাপন করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১০টির কাজ শেষ।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, প্রকল্পটি চালু হলে কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু এলাকার দৃশ্যই বদলে যাবে। দ্রুত যাতায়াতের পাশাপাশি যানজটও কমবে। যেহেতু এখন নিয়মিত পর্যটকরা আসছেন, তাই গাছ লাগানো, বেঞ্চ স্থাপনসহ বিনোদনের ব্যবস্থা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ব্যয় শুরুতে ধরা হলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকায়। একই সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পর্যটনকেন্দ্রও গড়ে তুলছে সিডিএ।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত