বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

নেত্রকোনার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেলো দেশের জিআই স্বীকৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নেত্রকোনার শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বালিশ মিষ্টি দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই খুশির খবর পেয়েই নেত্রকোনাবাসীর মধ্যে উল্লাসের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর (ডিপিডিটি) বালিশ মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। মিষ্টিটির উৎপত্তি নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোড এলাকায়। আনুমানিক ১২০ বছর আগে স্থানীয় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন। ছোট বালিশের মতো লম্বাটে ও তুলতুলে আকারের জন্যই এর নামকরণ করা হয় ‘বালিশ মিষ্টি’।

মিষ্টিটির জনপ্রিয়তা শুরু হয় ১৯৪৭ সালের আগে, যখন তৎকালীন কালীগঞ্জ শহর বর্তমান নেত্রকোনা শহরে দিনে দিনে বালিশ মিষ্টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তার স্বাদ, মান এবং গুণের কারণে মানুষ আজও উদ্ভাবক গয়ানাথ ঘোষের নামেই এটি চেনে।

গয়ানাথ ঘোষের মৃত্যুর পর দোকানটি বিভিন্ন মালিকের হাতে চলে যায়। প্রথমে কুমুদ চন্দ্র নাগ, পরে নিখিল মোদক। তবে নাম ও স্বাদ আগের মতোই অক্ষুণ্ণ রয়েছে। বর্তমানে নিখিল মোদকের তিন ছেলে গয়ানাথের মিষ্টির দোকান পরিচালনা করছেন।

বালিশ মিষ্টি তৈরিতে মূল উপকরণ হলো দুধ, চিনি ও ছানা। দুধ থেকে ছানা তৈরি করে মণ্ড, মণ্ড দিয়ে বালিশ আকারের মিষ্টি তৈরি করা হয়। শেষে চিনির রসে ভেজানো এবং ঘন দুধের মালাই দিয়ে মুখরোচকতা বৃদ্ধি করা হয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বালিশ ২–৩ দিন এবং শীতকালে ৭–৮ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। দাম শুরুতে ৫০ পয়সা ছিলো; বর্তমানে ৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়।

নিখিল মোদকের বড় ছেলে বাবুল মোদক বলেন, “এটি নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে আমরা গর্বিত। আমরা মান বজায় রেখে ঐতিহ্য ধরে রেখেছি। সারাদেশ থেকে মানুষ এখানে বালিশ মিষ্টি খেতে আসে।”

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, “নেত্রকোনার নামের সঙ্গে বালিশ মিষ্টি অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা খুশি। প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়েছে। অনুমোদনের পর সরকারিভাবে সনদ গ্রহণ করা হবে।”

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত