বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

ঈদগাঁও নদীর বুক দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব

আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) : 

কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও নদীর বুক দখল করে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব। এ নিয়ে পুরো ঈদগাঁও উপজেলাজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।

সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদগাঁও বাজার ডিসি সড়কের ছাগল বাজার সংলগ্ন উত্তর পাশে নজরুল মার্কেটের পেছনে নদীর মূল প্রবাহের উপর পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, পোকখালী ইউনিয়নের পশ্চিম গোমাতলী এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম নদীর বুক দখল করে এ অবৈধ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহের গতিপথ দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে বর্ষা মৌসুমে বাজারের শতাধিক দোকানপাট ও ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতি বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাজারের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয় এবং এতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার ঢলের পানি থেকে মার্কেট রক্ষায় আমার নিজস্ব জায়গার মধ্যেই গাইডওয়াল নির্মাণ করছি।” তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তিনি নদীর মূল প্রবাহ দখল করে স্থাপনা তুলছেন, যা ভবিষ্যতে নদীর গতিপথে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

নদী পাড়ের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে নদীর উভয় পাড়ই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে চলে যাচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে নদীর প্রস্থ ক্রমেই কমে আসছে, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির প্রবাহ। এতে ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে নদীর বুক দখলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার। তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করবেন এবং অবৈধ নির্মাণ বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।

ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, “বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। আমি ইতোমধ্যে এসিল্যান্ডকে অবগত করার উদ্যোগ নিয়েছি।”

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমা এবং সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ঈদগাঁও উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শারমিন সোলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানকে জানানো হলে তিনি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

উপজেলার সচেতন নাগরিক, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং বাজারের ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে ঈদগাঁও নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে নদীর উভয় কূলের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে এ নদী বিলুপ্তির মুখে পড়বে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত