বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

হাটহাজারীতে বিএনপি কর্মী হত্যার ঘটনায় রাউজানে উত্তেজনা, প্রধান দুই সড়ক অবরোধে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিএনপি কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিম (৫২) হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাউজান উপজেলার প্রধান দুটি সড়ক—চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক ও চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে এবং সড়কের উপর বসে বিক্ষোভ করেন, ফলে দুই ঘণ্টাব্যাপী তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েন।

এর আগে একই দিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের মদুনাঘাট বাজারের ওয়াসা পানি শোধনাগার প্রকল্পের মূল ফটকের সামনে মুখোশধারী কয়েকজন অস্ত্রধারী আবদুল হাকিমের ব্যবহৃত প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে গাড়ির ভেতরে থাকা আবদুল হাকিম ও তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল হাকিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আবদুল হাকিম রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের পাঁচখাইন গ্রামের বাসিন্দা এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির (বহিষ্কৃত) ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকায় একটি গরুর খামার ও বালু উত্তোলনের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়, মুখোশধারী কয়েকজন যুবক মদুনাঘাট এলাকায় তার গাড়ি থামিয়ে গুলি চালায় এবং পরে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। গাড়ির গ্লাস ছিদ্র হয়ে কয়েকটি গুলি আবদুল হাকিমের শরীরে লাগে।

হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাউজানের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের মদুনাঘাট, নোয়াপাড়া পথেরহাট, গশ্চি নয়াহাট, পাহাড়তলী চৌমুহনীসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। একই সময়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের মুন্সিরঘাটা ও মদেরমহাল এলাকায়ও বিক্ষোভ হয়। এসব স্থানে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীরা মুহাম্মদ আবদুল হাকিমের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করে স্লোগান দেন। রাউজান উপজেলা সদরে একই দাবিতে আরও একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “আমার ভাইকে কে বা কারা গুলি করেছে জানি না। আমি শুধু আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনাটি রাউজান ও হাটহাজারী সীমান্ত এলাকায় ঘটেছে। আমরা দুই থানার যৌথ উদ্যোগে হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।”

এদিকে, পুরো এলাকায় এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত