চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিএনপি কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার পর কেটে গেছে ১৮ দিন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ধরা পড়েনি প্রকৃত অপরাধীরা। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে সংশয়। পুলিশও নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না, তারা এ হত্যার সঙ্গে যুক্ত কিনা।
অপরদিকে, এ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে রাউজান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করছে।
গত ৭ অক্টোবর বিকালে হাটহাজারী থানার মদুনাঘাট এলাকায় নিজ প্রাইভেটকারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপি কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে। পরদিন ৯ অক্টোবর রাতে নিহতের স্ত্রী তাসফিয়া আলম তানজু বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, দুষ্কৃতকারীরা মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে গুলি করে হত্যা করেছে। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
নিহত আবদুল হাকিম রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের পাঁচখাইন গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, এলাকায় বালুর ব্যবসা, বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব বা এলাকা নিয়ন্ত্রণের আধিপত্যের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ তালুকদার বলেন,
‘আবদুল হাকিম কোনো খারাপ কাজে যুক্ত ছিলেন না। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যারা তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। অথচ ঘটনার দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কারণ খুঁজে বের করতে পারেনি।’
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন,
‘মদুনাঘাট এলাকায় সংঘটিত আবদুল হাকিম হত্যার তদন্ত চলছে। কারা কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে, শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে।’
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ বলেন,
‘রাজনৈতিক কারণ, বালুর ব্যবসা, এলাকায় আধিপত্যসহ সব বিষয় মাথায় রেখে আমরা তদন্ত করছি। আশা করছি, এ ঘটনায় জড়িতদের শিগগিরই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে আবদুল হাকিম তার গ্রামের খামারবাড়ি থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে চট্টগ্রাম নগরের উদ্দেশে রওনা দেন। গাড়িতে তিনি চালকের পাশে বসা ছিলেন। মদুনাঘাট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলযোগে আসা কয়েকজন অস্ত্রধারী তার গাড়ির পিছু নেয়। পানি শোধনাগার এলাকায় পৌঁছালে তারা গাড়িতে গুলি চালায়। এতে আবদুল হাকিম ও তার সঙ্গে থাকা আরেকজন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আবদুল হাকিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আবদুল হাকিম স্থানীয় হামিম অ্যাগ্রো নামে একটি গরুর খামারের মালিক ছিলেন। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (স্থগিত পদ) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আবদুল হাকিম দলের কেউ নন।
এ ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছে।


