ঢাকার অদূরে সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনার ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সংঘটিত ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক, আহত হন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ। দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত এ ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলার বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি।
ভবন ধসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে একটি হত্যা মামলা করে পুলিশ। ভবন নির্মাণে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি মামলা করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। দুর্নীতি ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
এসব মামলার মধ্যে কেবল দুদকের দায়ের করা সম্পদের তথ্য গোপনের একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে ভবন নির্মাণে দুর্নীতির মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। তিনটি মামলা এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে, আর একটি মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের মামলা দুটি ২০১৬ সালে বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়। একই বছরের ১৫ মার্চ মামলা দুটি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য আদালতে পাঠানো হয়। ১৬ জুন ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৮ জুলাই হত্যা মামলায় সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আদালত।
রানা প্লাজা ধসের পরদিন সাভার থানার উপপরিদর্শক আলী আশরাফ অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে একটি মামলা করেন। পাশাপাশি গার্মেন্ট শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলি আক্তার আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন, যা পরে একীভূত করে তদন্ত করে সিআইডি। এ মামলায় মোট ৫৯৪ জনকে সাক্ষী করা হয়।
বর্তমানে হত্যা মামলাটি ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ ৩০ মার্চ তিনজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৩০ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলার ৪১ আসামির মধ্যে সোহেল রানা কারাগারে রয়েছেন। তার বাবা আব্দুল খালেক ও মা মর্জিনা বেগম মারা গেছেন। বর্তমানে ১৩ জন আসামি পলাতক এবং ২৫ জন আসামি বিভিন্ন সময়ে জামিনে রয়েছেন।


