চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হয়ে শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় (২৩) নামের এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ফটিকছড়ির হেয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। জানা গেছে, ভারত থেকে অবৈধপথে আসা গরুভর্তি একটি ট্রাক ছাড়াতে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে গত ১৮ এপ্রিল মধ্যরাতে উপজেলার কয়লা বাজার এলাকায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা যুবদল কর্মী মো. সবুজের ওপরও নির্মম হামলা চালানো হয়। তার হাতের রগ কেটে দেওয়া এবং চারটি দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত সবুজ বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হৃদয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কয়লা বাজার এলাকা। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা দুলালের বাড়িতে হামলার চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি হামলাকারীদের পক্ষের লোক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়লা বাজারে ভারতীয় সীমান্ত হয়ে অবৈধভাবে আনা গরুভর্তি একটি ট্রাক আটক করেন যুবদলের কয়েকজন কর্মী। গরুগুলো বদ্ধ ভবানী এলাকার বিএনপি নেতা ও গরু ব্যবসায়ী মো. টিপু ও আব্দুর রহিমের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছিল বলে জানা যায়। ট্রাক আটকের পর যুবদল কর্মী মো. সবুজ ও তার সহযোগীরা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ট্রাকচালক সুমনকে মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় আব্দুর রহিম স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল আলিমকে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং ট্রাক ছাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। আলিম ক্লান্তির কথা জানিয়ে যেতে না পারলেও পরে তার ছেলে শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় ও সহযোগী আনোয়ার হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
আব্দুল আলিম জানান, তার ছেলে ও আনোয়ারকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। রাত ৩টার দিকে ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহরিয়ারকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে সবুজকে পরদিন বিকেলে কয়লা বাজার এলাকার সড়কের পাশে পাওয়া যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি কর্মী সিরাজুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা অবৈধ গরু ব্যবসায়ী টিপু ও তার লোকজনের সহায়তায় এ হামলা চালিয়েছে। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত তার ছেলে মারা যায়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব (স্থগিত কমিটি) ইয়াসিন মিজান বলেন, বর্তমানে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সব কমিটি স্থগিত রয়েছে এবং সিরাজুল ইসলামের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি বলেন, সম্প্রতি দলীয় বৈঠকে অবৈধ ব্যবসা ও স্থানীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে আব্দুল আলিমের বাগবিতণ্ডা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল।
শাহরিয়ার হত্যার ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, এ ঘটনায় ২২ এপ্রিল রাতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শাহরিয়ারের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া সড়ক অবরোধের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন এবং বিকেল থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


