চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আওয়ামী তাঁতী লীগের চরম্বা ইউনিয়ন সভাপতি ও একাধিক মামলার পলাতক আসামি হেলাল উদ্দিন প্রকাশ হেলাল মলইকে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। তিনি জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলন সংশ্লিষ্ট তিনটি মামলার এজাহারনামীয় আসামি বলে জানা গেছে।
রোববার (৬ জুন) দুপুরে লোহাগাড়া বটতলী শহরের বিমান বিল্ডিং এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে লোহাগাড়া বটতলী শহরের বিমান বিল্ডিং এলাকায় হেলাল মলইয়ের উপস্থিতি টের পেয়ে সাধারণ জনতা চারিদিক থেকে তাকে ঘিরে ফেলে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে লোহাগাড়া থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, হেলাল মলই পতিত আওয়ামী সরকারের সাবেক ‘বিনা ভোটের’ এমপি আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তার ‘ডান হাত’ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। বিগত বছরগুলোতে দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি চরম্বাসহ লোহাগাড়ার বহু আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা, হামলা ও নানাভাবে হয়রানি করেছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তিনি গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন।
এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, আজ দুপুরে জনতার হাতে আটক হওয়ার আগে, সকাল ১২টা থেকে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসি ল্যান্ডের সাথে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন হেলাল মলই। সেখান থেকে বের হওয়ার পরপরই তিনি বিমান বিল্ডিং এলাকায় জনতার তোপের মুখে পড়েন। তবে এই বৈঠকের উদ্দেশ্য বা সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লোহাগাড়া থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আটক হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় তিনটি সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। তাকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।


