রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
Single Top Banner

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ

বাড়ী ফিরে গেছেন আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষ, সহায়তায় কাজ করছে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম নগরী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও সৃষ্ট বন্যায় সরকারের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রশাসন নিরলস কাজ করছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া সবাই বাড়ী ফিরে গেছে। তাদের সহায়তায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ কৃষি মৎস্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর, আবহাওয়া বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন দপ্তর বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ছুটিবিহীন অবস্থায় সার্বক্ষনিক কাজ করে চলেছে।

চট্টগ্রাম জেলায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ১৮-১৯ জুলাই হালকা থেকে মাঝারি এবং ২০ থেকে ২২ জুলাই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার আশংকার কথা বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এর ১৭ জুলাই তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর এবং চট্টগ্রাম জেলার ১৫ টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ছয়টি উপজেলা- সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী এবং সন্দ্বীপ অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৯২০৮, পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৬০২০, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০৫, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ১৪৯২ কিলোমিটার ও ক্ষতিগ্রস্ত সেতু/কালভার্ট ১৬৯টি এবং মারা গেছেন ১৬ জন।

চট্টগ্রাম জেলায় ৬৭০ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছিল এবং ২৪৫ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছিল। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সবাই আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে গেছে। ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৯৫ লক্ষ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য নগদ ৪ লক্ষ টাকা, গো খাদ্যের জন্য নগদ ১০ লক্ষ টাকা, ১ হাজার বান্ডিল ডেউটিন এবং গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি ৩০ লক্ষ টাকা ত্রাণ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। ১ হাজার ৮০ মেট্রিকটন চাল, ৮৩.৭৫ লক্ষ টাকা নগদ, ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লক্ষ টাকা নগদ, গো খাদ্যের জন্য ১০ লক্ষ টাকা নগদ ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ১২০ মেট্রিকটন চাল, ১১.২৫ লক্ষ টাকা নগদ, ১ হাজার ৪৫ বান্ডিল ডেউটিন এবং গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরী ৩০ লক্ষ টাকা ত্রাণ মজুদ রয়েছে।

জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম বন্যা ও ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপে কাটা প্রতিরোধ ও সাপে কাটলে দ্রুত হাসপাতালের শরণাপন্ন হওয়া, শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদে রাখা, ত্রাণ গ্রহণে লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা, দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার এড়িয়ে চলা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সড়ক প্রচার ও মাইকিং অব্যাহত রয়েছে রেখেছে।

বাংলাদেশে বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্র ও বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র তাদের প্রতিদিনের সংবাদ ও বুলেটিনগুলোতে বন্যা, পুনর্বাসন ও ত্রাণের সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন বার্তা প্রচার করছে। আঞ্চলিক তথ্য অফিস, পিআইডি চট্টগ্রাম প্রতিদিন বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন ও ত্রাণ প্রদানে ভিআইপি কভারেজসহ ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসনের সচিত্র সংবাদ প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রেরণ করছে- মানুষকে সচেতন করছে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত