বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

গল্পের শুরু টা না হয় পরে!

জীবন নামের ঝুলন্ত থলি থেকে, (পর্ব-১১)।

হ্যাঁ, আগে বাড়তে চাই, থমকে থাকতে মানা আছে, অভিভাবক মন্ডলী’র। আগে বাড়তে হবে আমায়। গত পর্বের শেষের দিকে প্রাবন্ধিক রবিন ঘোষ মহাশয়ের সাথে কবিতার প্রাণ প্রথিতযশা কবি, বাঁশখালীর গৌরব কবি আশীষ সেন স্যারের কথাই বলতে গিয়ে রণেভঁঙ্গ দিয়ে ছিলাম। কারণ টা খুউব একটা সুখকর না হলেও, দু:খের বলে উচ্চারণ ও আমার কাছে বড়োই বেমানান।

কেননা, ৭১’র মুক্তি ফৌজ এর রণকৌশল ঠিক করে দিয়েছে আমায়, আল্ বদরের গুপ্ত প্রেতাত্মা কিংবা সূত্রীয় দোসরদের অসংখ্য চর নেঁড়ি কুত্তার বেশ ভুশা নিয়ে আশপাশে গন্ধ খুঁজে বেড়ানো আঁচ করতে সক্ষম হওয়া মাত্রই কী করণীয় আমার। সে কৌশল অবলম্বনের বেলায় আমি মোটেও অসতর্ক হতে রাজি নই। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এক কূলাঙ্গাঁর এর লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের ন্যক্কারজনক হামলার বিরুদ্ধে প্রজন্মের প্রগতিশীল ছাত্র জোট সহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ কারী সমূদয় গোষ্ঠীর নেতাদের একাট্টা হয়ে চলমান উত্তাল আন্দোলনের ফাঁকে উত্তরবঙ্গের ধার করা কিছু নেঁড়ি কুত্তার চক্রান্তের শিকারে ক্ষত-বিক্ষত এই আমি।

কিন্তু মুক্তধারার পথে এগিয়ে যেতে হবে আমায়। তাই আগে বাড়তে চাই, আত্মবিশ্বাস এবং সন্দেহের বেড়াজাল ছিন্ন করে। যে ছবক আমার আন্ত: হৃদয়ে ত্যেজোদ্দীপ্ত স্ফুলিঙ্গের বীজ বপন করে দিয়েছিলেন মাষ্টার দা, প্রীতিলতা দি, কল্পণা দি তথা ক্ষুঁদিরাম বসূ’র মুক্তিবীণা’র ব্যাকূল সূরের মূর্ছনা।

“সন্দেহ আর অবিশ্বাস” এর ফুলঝুড়ি তে কখনোই বন্ধুত্বের স্থায়িত্ব যেখানে আদৌ সম্ভব নয়, সেখানে জাগতিক জীবনের সাতকাহন মামুলি সাধারণ ব্যপার। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কূ-প্রবৃত্তি, কূ-মানসিকতা, লোভাতুর দৃষ্টিভঙ্গির প্রায়োগিক প্রতিফলন, আপনার প্রতি আত্মবিশ্বাস এ ঘাটতি, মননশীলতার অভাব, আত্মকেন্দ্রিকতা, অসহনশীলতা ইত্যাদি’র ব্যাপক সমীকরণে মানবীয় গুণাবলী থেকে ক্রমান্বয়ে বিচ্ছিন্ন করে করে দেয়, বণী আদম সম্প্রদায় কে।

এটা কোনোও ঐচ্ছিক অনুশীলনের মাধ্যমে নয়, বৈজ্ঞানিক ভাবেই প্রমাণিত হতে বাধ্য ! একটি বাহন এর বহন ক্ষমতার তুলনায় বেশি যখন জুড়ে দেয়া হয়, তখন ঐ বাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেগতিক হওয়াটাই স্বাভাবিক। ঠিক সেভাবেই যোগ্যতার চেয়ে প্রাপ্তি’র পরিমাণ বেশি হলে, মানুষ তার স্বপ্নের ঊর্ধ্বে বসবাসের নেশায় মেতে উঠে।

বিস্তারিত বিপত্তির সৃষ্টি হয়, ঠিক সেখান থেকেই। অর্থনীতির মৌলিক উৎস থেকে আমরা জানতে পারি যে, ভোক্তার চাহিদা এবং যোগান এর সমীকরণই মূলত: উৎপাদন শীলতা’র মৌলিক প্রতিক্রিয়ার গতিকে ইঙ্গিত করে।

তাই, বরাবরই চাহিদার সাথে জোগান এর সমণ্বয় জরুরী। পারিবারিক ক্ষেত্রে চাহিদার সীমারেখায় একটা মাপকাঠি থাকা উচিত। যেহেতু একটা নির্দিষ্ট অংকের চক্র সক্রিয় যোগানের উৎস, সেহেতু প্রকৃত সীমা ও মাপকাঠি পারিবারিক জীবন এর সর্বপ্রথম বাস্তবের সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করতে শেখায়।

এই শৃঙ্খলাই সাধারণ মানুষের জন্য একটি অন্যতম মৌলিক শিক্ষার আধার, যা সূচনা লগ্ন থেকে প্রতিটা মানুষের জীবনের গতিকে প্রগতিশীল শিক্ষায় শিক্ষিত, সামাজিক মূল্যবোধ, সুস্থ্য মানসিকতার বিকাশ তথা মানবতার বিশুদ্ধতায় মননশীতাকে শ্বাণিত করে। একই ভাবে যোগানের উৎস অপরিসীম হলেই কেবল বিলাসী চৈতন্য জাগ্রত হয় মানুষের মাঝে।

অবলীলায় মানুষ হতে থাকে অতি প্রত্যাষী। হিতজ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ে আন্ত: হৃদয়ে। মনুষ্যত্ব হারিয়ে যেতে থাকে প্রতিনিয়ত। এক সময় রুগ্ন চৈতন্য জাগ্রত হয়ে, মৌলিকত্ব হারাতে বসে মানুষ। চাহিদার ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ার ভয়ঙ্কর বাস্তবতার এক নির্মম ফলশ্রুতি প্রতিফলিত হয় মানবিকতা হারানো এই অমানবিকতায় প্রোথিত এই গোষ্ঠীর। তারই উচ্ছিষ্ট উদাহরণ এ পরিণত হয় তাবৎ মৌলিক যোগান দাতা। মনীষীদের উদ্ধৃতি তখন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জানান দেয়, “অর্থই অনর্থের মূল”..!

অবিশ্বাসের জাল সৃষ্টি করে আপনার ভিতর আপনাকে অশ্রদ্ধা, নষ্ট করে আপনাকে ভক্তি। দেখা দেয় কলহের নতুন সমীকরণ, যার প্রভাব বিস্তার করে ব্যক্তি থেকে পরিবারে, পরিবার থেকে সমাজে, এবং সমাজ থেকে ব্যাপকতা লাভ করে রাষ্ট্রে। বিশৃঙ্খলার সমূহ সম্ভাবনার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরিবারের কোমলমতি শিশুরা। জীবনের মানে বুঝে উঠার আগেই ঝরে পড়ে, আগামীর ভবিষ্যৎ।

রুগ্ন লালসায় বিকৃত যে মানুষ গুলো এর জন্য প্রথমত: দায়ী, তার মধ্যে অন্যতম স্বয়ং এই নিরীহ শিশু গুলোর গর্ভধারিনী মা। অত:পর ক্রমান্বয়ে প্ররোচনায় জড়িত প্রত্যেকেই।

গতকাল ফেইসবুক মেমোরি আমায় টেনে নিয়ে যায় গতবছরের এই দিনে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার উৎকৃষ্ট চিন্তা ও মননে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কে জানা’র এক মহৎ কর্মজজ্ঞের অংশ ছিলো এটি।

আমার প্রাণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা’র সন্তান ও বাবার নামে প্রস্তাবিত ট্রাষ্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে স্নেহের পরশে আমার ন্যায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মানুষ কে নির্বাচন করলেন বাবার শূন্যতা পূরণে। এসব প্রতিটি মূহুর্ত আমার কাছে হীরে মুক্তোর চেয়েও অনেক বেশি পবিত্র এবং মূল্যবান। একই সাথে বাবার পরশের পবিত্রতায় স্নিগ্ধ, যা মনের অজান্তেই বুক ভাসিয়ে যায় প্রতিনিয়ত।

বাবার প্রতিদানের বাস্তবতায় লালিত উত্তর বঙ্গের ধার করা এক ভিক্ষুক এখানে কটাক্ষের দু:সাহস দেখিয়ে উচ্চারণ করতে দ্বিধাবোধ করেনি এই বলে যে, নাজিম কে “ট্রাষ্টি” সম্বোধন করায়, বেশ খুশি হয়ে গেলো অ্যঁ…! ঘৃণায় মুখ খুলতে রাজি হইনি বলে, যে স্বরুপ উন্মোচিত হয়েছিলো আমার কাছে, তা-ই উপলব্ধি তে ব্যর্থ হয়েছিলো মুখপোঁড়া শূয়োরের পাল। খুউব ঈর্ষাণ্বিত হয়েছিলো সেদিন আমার লেখা বাবার কাছে খোলা চিঠি’র ভাষায়। আমি তাই এখানে বাবার কাছে লিখা সেদিনের খোলা চিঠি পেষ্ট করে ঐতিহাসিক করে রাখতে চাই।

বাবা’র কাছে খোলা চিঠি ।
==================
°[বাবা তুমি আছো, ছিলে, থাকবে। জাতির জনকের বীরোচিত কন্যা তোমাদের বাঁচিয়ে রাখতেই চেষ্টা করে চলেছেন বিরতিহীন ভাবে। তিঁনি চান তৃণমূল পর্যায় থেকেই নিরেট ভাবে জানুক মুক্তিযুদ্ধ’কে, শিখুক বঙ্গবন্ধু’কে, বুঝুক ৭১এর চেতনা’কে। তাই, বঙ্গবন্ধু কন্যা’র নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগান্তকারী পদক্ষেপ কচি-কাঁচাদের জ্ঞানপিপাসু করে তুলেছে। ৭১’এর বীর সন্তানদের ঘরে ঘরে ঢুঁ দিচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রগতিশীল চৌকস শিক্ষক মন্ডলী দ্বারা গঠিত টিম ক্ষুঁদে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আগামী প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ৭১’এর মূল চেতনার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে’র দ্বারপ্রান্তে। যথারীতি বীরের খোঁজে বের হয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজা শুরু, ওরা তোমার খোঁজ করতেই পেয়ে বসলো আমাকে। এক এক করে ধারাবাহিক প্রশ্ন গুলো’র কৌশল, আগ্রহ ও চাঞ্চল্য আমাকে আরো বেশী কৌতুহলী করে তুলছিলো।

জানো বাবা ? বুকফাঁটা কান্নাগুলো থেকে কিভাবে যে নিজেকে সামলেছি মাবুদ আল্লাহ্ জানেন। তুমি যে কথাগুলো কানে কানে বলতে না(?) জানো বাবা সবগুলোই সত্যি এবং বিস্ময় কর ভাবেই মিলে গ্যেছে ইতিমধ্যেই, তুমি একদম মন খারাপ করো না বাবা, তীক্ষ্ম মেধাবী শিক্ষার্থীদের যে আগ্রহ তোমাদের, ৭১’র, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’কে জানতে, তা-ই বলে দিচ্ছে ইনশ্ আল্লাহ্ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তোমাদের স্বপ্ন পূরণ হবেই।

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে চাইলে আমি সরাসরি বলে দিয়েছি “৫২, ৭১ যেমন একই সূত্রে গাঁথা, এগুলো অর্জনে বঙ্গবন্ধু, মানচিত্র ও বাংলাদেশ তেমনই অভিন্ন, ঠিক তেমনি ১৫ই আগস্ট, ২১শে আগস্ট এর লক্ষ্য অভিন্ন”। তাই আমাদের শুধু শিক্ষিত দিয়ে কোনোও কাজ নেই।

৭১’র প্রকৃত চেতনায় সমাজ বিনির্মাণে সু-শিক্ষিত ও স্ব-শিক্ষিত হয়ে বাস্তবতার সাথে মানব সেবার ব্রত নিয়ে যথাযথ মর্যাদায় নিজেকে সমুদয় জাতির প্রতি আত্মোৎসর্গ করতে মুষ্টিবদ্ধ শপথ নিয়ে বিলিয়ে/মিলিয়ে দিতে দ্ব্যর্থহীন ভাবে আমাদের প্রস্তুত হতে হবে এখনই। জয়তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’র কন্যা, জয়তু মুকুট নাইট উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, জয় হোক বিশ্ব মানবতার, বাংলাদেশ চীরজীবি হউক”]°

আমরা এমন এক অকৃতজ্ঞ জাতি, জীবন যৌবন উৎসর্গ করে রক্ত গঙ্গায় ছিনিয়ে আনা স্বাধীনতার তিন বছরের মাথায় হত্যা করেছি শুধু কী স্ব-পরিবারে পিতা ‘কে (?) শিশু রাসেল কে যেমন বাদ দেইনি, সাথে ঘরে থাকা “অ থেকে বিষর্গ” পর্যন্ত।

পিতা হত্যার এতোটা বছর পরেও যাদের গাঁ জ্বালা করে পিতার নাম শুনলেই ! তাদের পিতৃপরিচয় জানা বড়োই দুষ্কর..! ধিক্ তাদের জন্ম-বর্ণ, ধিক্ তাদের পরিচয়..! আল্লাহ্ সোবহানু তায়ালা সন্তান দের হেফাজত করুন যেনো সেই অপূর্ব সমন্বয়ে,
“ফেরাউন এর কোলে শিশু নবী মুহাম্মদ মূসা (আ:) এর আদলে”..!! আমীন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত